রবিবার, ৭ জুন ২০২০

আমি বাংলাতেই কথা বলবো, এই ভাষা মা শিখিয়েছে: মোস্তাফিজ

করোনা আতঙ্কে মাঠের খেলা আপাতত বন্ধ। তবে ক্রিকেটাররা কেউ বসে নেই, ফিটনেস ধরে রাখতে জিম কিংবা একাডেমিত কাজ করছেন। বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও বুধবার মিরপুরের একাডেমিতে আসেন। নানাজনের সঙ্গে করোনা ভাইরাস নিয়ে কথা বলতে বলতেই সময় যাচ্ছে তার। জিমে ঢোকার মুহূর্তে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন মোস্তাফিজ। খেলা না থাকলে কী করবেন আর নিজের পারফরম্যান্সসহ নানা বিষয় উঠে আসে আলাপচারিতায়-

প্রশ্ন: ৩১ মার্চ পর্যন্ত খেলা নেই, কী করবেন?

মোস্তাফিজ: আমাদের তো বলা হয়েছে ১৯ মার্চ পর্য়ন্ত খেলা নেই। ৩১ এর হিসাব আমাদের নাই (হাসি)।

প্রশ্ন: যদি লিগ একদমই বাতিল হয়, তাহলে পরিকল্পনা কী থাকবে?

মোস্তাফিজ: রানিং-ট্রেনিং করা উচিত। বাড়িতে গিয়ে কিছু করতে গেলে ৪-৫ জন লাগবে। বোলিং করতে গেলেও তো কেউ লাগবে। চেষ্টা করবো রানিং এবং ফিটনেসের কিছু ব্যাপার আছে এগুলো নিয়ে কাজ করার।

প্রশ্ন: লিগ ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত হলে বাড়ি যাবেন?

মোস্তাফিজ: মা-বাবা আছে তো। যদি দেখি সব ঠিকঠাক তাহলে যাব।

প্রশ্ন: বাড়িতে গেলে ফিটনেস ঠিক রাখা যাবে?

মোস্তাফিজ: যাবে না কেন? বাড়িতে কি মাঠ নেই নাকি?

প্রশ্ন: বল ভেতরে ঢোকানো নিয়ে কাজ করছেন?

মোস্তাফিজ: আমার কাছে ভালোই মনে হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি খেললাম, দুটি ওয়ানডে খেললাম। ওয়ানডেতে ১০ ওভার, টাইম পাওয়া যায়। প্রথম স্পেলে চেষ্টা করেছি বল ভেতরে ঢোকানোর। বেশি না হলেও দুই-একটা বল কাছাকাছি হয়েছে। আসতেছে… (ভেতরে ঢোকানো)। একদিনে তো হয় না সব। নতুন কোচের (ওটিস গিবসন) সঙ্গে বল ভেতরে ঢোকানো নিয়ে দুই সপ্তাহ কাজ করছি।

প্রশ্ন: কী কাজ?

মোস্তাফিজ: শুধু একটা গ্রিপ দেখিয়ে দিয়েছেন। আর হাতের কিছু… আহামরি কিছু না।

প্রশ্ন: লাল বলের চুক্তিতে আপনি নেই, টেস্টে ভবিষ্যৎ কী?

মোস্তাফিজ: হাত ভাল ঘুরলে আসতেও পারি (টেস্টের চুক্তিতে)।

প্রশ্ন: ২০১৫ সালে অভিষেক পর যেভাবে ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিয়েছেন সেরকম হতে ইচ্ছে করে না?

মোস্তাফিজ: চেষ্টা করি। নতুন যেকোনও জিনিস এক রকম। এখন আমাকে নিয়ে তো জানে সবাই। আমি আগে সহজেই উইকেট পেতাম। কিন্তু এখন আমার জন্য উইকেট পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।

প্রশ্ন: মোস্তাফিজ কি শুধু সাদা বলের?

মোস্তাফিজ: আমি লাল বল, সাদা বল-সব বলেই খেলতে চাই।

প্রশ্ন: অফ-কাটার কি ভোতা হয়ে গেল?

মোস্তাফিজ: অস্ত্রোপচারের পর বেশিরভাগ ম্যাচই বাইরে খেলা হয়েছে। দেশের উইকেটে গ্রিপ ভালো হয়। বাইরে এরকম আহামরি হয় না। উত্তরটা কীভাবে দেব (হাসি)। আমি দু-একটা জিনিস চেষ্টা করছি। ইয়র্কারটা আগের মতো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দিতে পারছি না, তবে আমি চেষ্টা করছি কী করলে ভালো হবে। কাটারটা তো আছে, আরও কাজ করছি ভেতরে ঢোকানো নিয়ে।

প্রশ্ন: আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছেন নাকি?

মোস্তাফিজ: কিছু কিছু উইকেট আছে সাড়ে তিনশো রান হয় । আবার কিছু উইকেটে আড়াইশো রান হবে, ওইটা আমার জন্য ভালো। উইকেটে একটু বল ধরলে ভালো হয় আমার জন্য। কিছু কিছু সময় ভাল-খারাপের মধ্যে দিয়ে ক্রিকেটাররা যায়। এটা না মানলে বড় খেলোয়াড় হওয়া যাবে না।

প্রশ্ন: আপনার ভালো অস্ত্র ব্লকহোল ডেলিভারি, সেটি হচ্ছে না কেন?

মোস্তাফিজ: আমার মনে হয় কোনও জায়গায় কিছু একটা (সমস্যা) ছিল। এখন আবার ভালো যাচ্ছে। তবে ওইভাবে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি না। আরও অনুশীলন করা লাগবে। সবকিছু ঠিক হবে আস্তে আস্তে।

প্রশ্ন: আগের মতো উদ্যম পাচ্ছেন না?

মোস্তাফিজ: বল তো ঠিক গতিতেই যাচ্ছে।

প্রশ্ন: অবসরে কিভাবে কাজ করেন?

মোস্তাফিজ: আমি আমার পুরোনো ভিডিওগুলো দেখি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একটা ছেলের কাছেও একটা টিপস পেয়েছি। স্লোয়ার বলটা নিয়ে বলছিল, সাইড থেকে না করে ওপর থেকে করলে ভালো হবে। ওর পরামর্শ ভালো লাগছে।

প্রশ্ন: আপনার মতো পেসারকে কি বিশ্রাম দিয়ে দিয়েই খেলানো উচিত?

মোস্তাফিজ: ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা উচিত। টানা তো সবারই কষ্ট। আমি বোলার শুধু আমার নয় ব্যাটসম্যানদেরও টানা খেলা কষ্টের। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট স্কিল বাড়ানোর জন্য অবশ্যই খেলা উচিত।

প্রশ্ন: যখন জাতীয় দলে ঢুকেছেন অটোমেটিক চয়েস ছিলেন, কিন্তু এখন মাঝে মধ্যে বাদ পড়ছেন। এখন এগুলো কতটা ভাবায়?

মোস্তাফিজ: আমার জন্য ভালো। বাদ পড়লে বুঝি আমার সমস্যা আছে। আমাকে উন্নতি করতে হবে।

প্রশ্ন: সেই জৌলুস আর নেই, কষ্ট লাগে না?

মোস্তাফিজ: চলতেছে, চলুক। এই আরকি!

প্রশ্ন: কষ্ট লাগে না, মন থেকে বলেন?

মোস্তাফিজ: ওরকম বেশি কিছু না। মনে হয় দেশের জন্য কিছু তো করছি। এখন অনেকে অনেক ‘ভাব’ নেয়। সাংবাদিকেরাও অনেক বাজে বাজে কথা বলে। চেষ্টা করি কী করলে আবার ওই জায়গায় যেতে পারবো।

প্রশ্ন: যুবদলের পেসাররা ভাল করছে, ছোটরা ভালো করায় চাপ অনুভব করেন?

মোস্তাফিজ: আমরা তো আজীবন খেলব না। আমি ২০ বছরে ঢুকছি (জাতীয় দলে)। ধরেন শরিফুলের বয়স ১৯। ও যদি দুই বছর পর ঢোকে তখন আমার ক্যারিয়ার সাত বছরের হয়ে যাবে। কিছু নতুন খেলোয়াড়কে তো আসা লাগবে। তরুণ ভালো খেলোয়াড় আসলে আমাদের জন্যই ভালো। প্রতিযোগিতা থাকা সবার জন্যই ভালো।

প্রশ্ন: ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বাড়ানোও উচিত না?

মোস্তাফিজ: আমি বাংলাতেই কথা বলবো। আমি যেভাবে আছি সেভাবে থাকতে ভালোবাসি। কারা কী করে কিংবা বলে সেসবে আমার মাথাব্যথা নেই। আমার বাংলায় কথা বলতে ভাল লাগে। এই ভাষা আমার মা শিখিয়েছে ভাই।

প্রশ্ন: ওয়ানডে ক্রিকেটে বোলার অধিনায়ক ছিল। এখন ব্যাটসম্যান অধিনায়ক। তামিম কি বুঝবেন আপনার ভালোমন্দ?

মোস্তাফিজ: আমাকে দিয়ে ভাই (মাশরাফি) ভরসা পেতেন। আমি যে সময় থেকে আছি, তামিম ভাইও আছেন, দেখতেছেন তো। বুঝবেন না কেন?একটি-দুটি ম্যাচ গেলেই পুরোপুরি বুঝে ফেলবেন।

আরো পড়ুন

মে মাসে বাংলাদেশ থেকে করোনার বিদায়: সিঙ্গাপুরের গবেষণা

করোনাভাইরাসে দেশে একদিনে রেকর্ড ৪০ মৃত্যু, আক্রান্ত ২৫৪৫

চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের …