শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১
হোম » অপরাধ » হবু স্বামী অপহরণ ঘটনার মূল হোতা কনে
হবু স্বামী অপহরণ ঘটনার মূল হোতা কনে

হবু স্বামী অপহরণ ঘটনার মূল হোতা কনে

ভয় দিয়ে মুক্তিপণের ৩০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য অপহৃত আইনজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামাল মিলনের (৩৩) জামায় কোয়েল পাখির রক্ত মাখায় আপহরণকারীরা। এরপর পরিবারের কাছে সেই রক্তমাখা জামা পাঠিয়ে টাকা আদায়ের কৌশল নেয় তারা। মিলনকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। দাবিকৃত টাকা না দিলে মিলনকে মেরে ফেলা হবে বলে তারা হুমকি দেয়।

ভারতীয় টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ক্রাইম পেট্রোল নামে একটি অনুষ্ঠান থেকে অপরাধীরা এমন অপরাধের পরিকল্পনা করে। এমন অপরাধের ঘটনা তারা আগেও ঘটিয়েছে। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের অর্থ সংগ্রহের জন্য এরা অপহরণকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। আর এই অপহরণ ঘটনার মুল হোতাদের অন্যতম একজন অপহৃতর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হওয়া স্বয়ং কনে রাবেয়া সুলতানা রিতু (২২)। রিতু স্ট্যাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী বলে জানা গেছে।

অপহরণ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে আটক ও অপহৃত আইনজীবীকে উদ্ধার করার পর অপহরণকারীদের সম্পর্কে এমন তথ্য জানতে পারে যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় পুলিশ এক নারীসহ তিনজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো শাহীন শিকাদার (১৮), আব্দুস সালাম (২৪) ও সুরাইয়া (২০)। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে এ ঘটনার মূল হোতা হাবিব মিলন রাজ (২৪) ও রিতু (২২) সহ আরো কয়েকজন। আজ বুধবার দুপুরে পিবিআই যশোর কার্যালয়ে অপরণকারীদের সম্পর্কে এসব তথ্য জানান পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার যশোরের অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রাম থেকে আইনজীবী মিলনকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের এম এ হাকিমের ছেলে। মিলনের সাথে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের এস এম হারুনুর রশিদের মেয়ে রাবেয়া সুলতানা রিতুর বিয়ে ঠিক হয় পারিবারিকভাবে। এরপর রিতু গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মিলনকে খুলনা পাইওনিয়র কলেজের সামনে দেখা করার জন্য ডেকে এনে কৌশলে অপহরণ করে। এরপর মিলনকে রিতুর বান্ধবী সুরাইয়ার যশোরের অভয়গর উপজেলার একতারপুর গ্রামের বাড়িতে বন্দি করা হয়। সেখানে আইনজীবী মিলনকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ হিসেবে তার পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে মিলনকে মেরে ফেলা হবে বলে তারা শাসায়। এমনকি ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের লক্ষ্যে কোয়েল পাখির রক্ত মিলনের জামায় মেখে তা তার পরিবারের কাছে পাঠানোর কৌশল নেয় অপহরণকারীরা।

পুলিশ সুপার রেশমা শারমীন আরো জানান, অপহণের পর মিলনের ভগ্নিপতি শরিফুল ইসলাম গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার তালা থানায় একটি জিডি করেন। পরে তারা জিডির কপি নিয়ে যশোরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) যোগাযোগ করে। পিবিআই অভয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে শাহীন শিকদারকে আটক করে। এরপর তার দেওয়া তথ্য মতে সুরাইয়ার বাড়ি থেকে অপহৃত আইনজীবী মিলনকে উদ্ধার করে। এ সময় সুরাইয়া ও আব্দুস সালামকে আটক করা হয়।

রেশমা শারমীন বলেন, অপহরণকারীরা উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের খরচ চালানোর জন্য অপহরণকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। তারা ভারতীয় ক্রাইম পেট্রোল নামে একটি অনুষ্ঠান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করে। ঘটনার মুল হোতা রিতু ও রাজসহ আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন

শ্রমিকরা বলছে ‘এলোপাতাড়ি গুলি’র কথা, পুলিশের দাবি ‘শ্রমিকরা আক্রমণ করেছিল’

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকরা বেতন, বোনাসসহ আরও কিছু দাবিতে শনিবার সকাল থেকে বিক্ষোভ …