শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১
হোম » লিড নিউজ » সামনে করোনার টিকা আরও আসবে: শেখ হাসিনা

সামনে করোনার টিকা আরও আসবে: শেখ হাসিনা

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামনে করোনার টিকা আরও আসবে। তবে, নিজেকে এবং অন্যদেরকে সুরক্ষার জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।  করোনার দ্বিতীয় ঢেউ খুবই মারাত্মক। তিনি জানান, বিপুল টাকা খরচ করে সরকার টিকা নিয়ে এসে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে তা বিনামূল্যে দিচ্ছে।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত নিম্ন আয়ের প্রায় ৩৫ লাখ পরিবার এবং অতিসম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ লাখ কৃষক পরিবারে নগদ সহায়তা কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আজ (রোববার) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশটা আমাদের, আমার পিতা দেশটা স্বাধীন করে দিয়েছেন। তাই আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের পাশে থাকে। এটাই তাদের রাজনৈতিক দর্শন।

তিনি সরকার বিরোধীদের এবং সমালোচনাকারী বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা কেউই আজ মানুষের পাশে নেই। বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ বা বুদ্ধি তখনই পাওয়া যায়, যখন সরকার সব সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে। এপ্রিল মাসে মোট এক লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে মারা গেছেন দুই হাজার ৪০৪ জন। অর্থাৎ গতমাসে গড়ে প্রতিদিন ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে এক মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ওই মাসে শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৩৩০।

তবে মার্চ মাস থেকে হঠাৎ করোনার প্রকোপ লাফিয়ে বাড়তে থাকে। মাসটিতে শনাক্ত ৬৫ হাজার ৭৯ জন, মারা যান ৬৩৮ জন। তবে এপ্রিল মাসে আগেকার সব রেকর্ড ভেঙে শনাক্ত হন এক লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৭ জন এবং মারা যান সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪০৪ জন।

করোনায় সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম সময় গেলো এপ্রিল জুড়ে। বাংলাদেশে এই মাসে প্রতিদিন গড়ে ৮১ জনের প্রাণ গেছে করোনায়। আর মোট মারা গেছেন ২ হাজার ৩৪৭ জন।ভারতের টিকার ওপর নির্ভর করে৭ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয়ভাবে করোনা প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৬১৬ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৮ লাখ পাঁচ হাজার ৬৯৪ জন। দুই ডোজ মিলিয়ে মোট ৮৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৫০ ডোজ টিকা দেওয়া শেষ হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের ভ্যাকসিন সংগ্রহের ব্যস্ততায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা থেকে মনযোগ সরে গেলে বিপদ বাড়বে।
সংক্রমণ হিসেব- নিকেশের বিভিন্ন মডেল বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে দৈনিক সংক্রমণ দ্বিগুণ হতে পারে।

টিকা সংকটের কারণে ২৬ এপ্রিল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে প্রথম ডোজের কার্যক্রম। প্রথম ডোজ দেওয়া ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৯২২ জন এখনও দ্বিতীয় ডোজ পাননি। এদিকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত টিকার জন্য নতুন নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৬ জন।

এদিকে, ভারতে উৎপাদিত অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবার কারণে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। তবে আশা জাগাচ্ছে, চীন ও রাশিয়ার টিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে দেশেরই টিকা হোক না কেন, প্রয়োগের পরপরই অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না। এ অবস্থায় আগামী অন্তত চার মাস অনিরাপদ থাকছে দেশ।

 

আরো পড়ুন

আবারও এক দফা লকডাউন বাড়ছে

দেশে করোনাভারাসের সংক্রমণ রোধে আগামী ১৬ মের পর থেকে । সেইসঙ্গে শতভাগ মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক …