মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১
হোম » খেলা » সময় নষ্ট না করে সামনে তাকাচ্ছে বিসিবি
সময় নষ্ট না করে সামনে তাকাচ্ছে বিসিবি

সময় নষ্ট না করে সামনে তাকাচ্ছে বিসিবি

দেশের খেলা বাদ দিয়ে সাকিব আল হাসানের আইপিএল বেছে নেওয়া নিয়ে হুলুস্থুল থামতে না থামতেই বছর তিনেকের পুরনো এক ‘সিক্রেট’ প্রকাশ্য করে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান। জানালেন, ‘অনিচ্ছুক’ এই অলরাউন্ডারকে টেস্ট খেলায় আগ্রহী করে তুলতেই তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছিল নেতৃত্বও। ২০১৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে টেস্ট থেকে সাকিবের ছয় মাসের ছুটি চাওয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই নাজমুল বলে দিলেন, ‘সাকিব তো আরো তিন বছর আগেই টেস্ট খেলতে চায়নি। তখন ওকে অধিনায়ক করে দেওয়া হলো।’

এত দিন পর এখন একেবারেই অন্য উপলব্ধি দেশের ক্রিকেটের কর্তাব্যক্তির, ‘জোর করে চেষ্টা করলাম তো। লাভ হলো না। তাতে আমরা সামনের দিকেও এগোতে পারছি না, বরং পেছাচ্ছি আরো।’ তাই এপ্রিলে আইপিএলের সময় শ্রীলঙ্কা সফরের দুই টেস্ট থেকে ছুটি চাওয়া সাকিব তো বটেই, কাউকেই আর জোর না করে পরিকল্পনার নতুন দিগন্ত খুলে সামনে পা বাড়াতে চাইছে বিসিবি। এটি স্বীকারে নাজমুলের কোনো দ্বিধাই নেই যে সাকিবের সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য ‘শকিং’ ছিল। তবে এর ‘আফটার শক’ হিসেবে ক্রিকেটাররাও অভিভাবকের নিরঙ্কুশ স্নেহ হারাতে চলেছে। খেলতে না চাইলে কারো পথ চেয়েই আর বসে না থাকার কঠোর সিদ্ধান্ত বিসিবির।

দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্ট ভরাডুবির পর নিউজিল্যান্ডগামী দলের খেলোয়াড় ও কোচদের ‘সাহস’ জোগাতে ডাকা নাজমুল কাল বসেছিলেন বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গেও। সেখানেই ঠিক হয়েছে, নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির আগেই ক্রিকেটারদের কাছ থেকে এই ‘মুচলেকা’ নিয়ে নেওয়া হবে যে কারা দেশের হয়ে খেলতে চান বা কারা চান না। এর ভিত্তিতেই ঠিক হবে চুক্তিতে কারা থাকবেন, ‘(সামনের) চুক্তিতে নতুন কিছু জিনিস যুক্ত হবে। ওখানে পরিষ্কারভাবে লেখা থাকবে যে কে কোন ফরম্যাট খেলতে চায়। এটাও জানতে হবে, তাদের যদি অন্য কোনো খেলা থাকে, তাহলে সেখানে খেলবে নাকি দেশের হয়ে খেলবে। এখন ব্যাপারটি উন্মুক্ত। আগে এটা ছিল ব্যক্তিবিশেষের ওপরে, এখন আমরা কাগজে-কলমে লিখিত নিয়ে নেব। কারো বলার কিছু থাকবে না। যে খেলবে না, সে খেলবে না।’

দেশের হয়ে খেললে যখন-তখন অন্য কোথাও খেলতে দেওয়া হবে না। আর অন্য কোথাও যেতে চাইলেও ক্রিকেটাররা এখন বাধাহীন, ‘কারো যদি জাতীয় দলের চেয়ে অন্য কোথাও খেলতে ভালো লাগে তাহলে তারা যেতে পারে, কোনো বাধা নেই। এই বার্তাটা সবার জন্য, কেবল সাকিব আল হাসানের জন্য না।’ অন্য কোথাও খেলার জন্য এক-দুটো সিরিজ থেকে বিরতি নিতে চাইলেও সেই ফরম্যাটের বিবেচনা থেকে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের দীর্ঘ মেয়াদে হারিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও আছে নাজমুলের কথায়, “একদম দীর্ঘমেয়াদি (সিরিজভিত্তিক নয়)। কারণ এটা আমাদের চিন্তায়ই আসেনি কখনো। আপনারা আমাদের দিকটা ভেবে দেখেন। আমি তো কখনো অনুমোদন করিনি এগুলো। কিন্তু আমি যখন চিন্তা করে দেখি যে এ রকম এতগুলো ম্যাচ হারার পরে খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে সিনিয়রদের যেখানে পরবর্তী টেস্ট ম্যাচ জেতার চিন্তা মাথায় থাকার কথা, তখন বলে, ‘আমি খেলব না।’ তা-ও ব্যক্তিগত কোনো ব্যাপার না। আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলার জন্য। তখন এটা খুব পরিষ্কার যে আসলে এদের দিয়ে খুব একটা বেশি কিছু করা যাবে বলে আমার মনে হয় না। অন্তত টেস্টে।”

তাই সময় নষ্ট না করে নতুনভাবে এগোনোর চিন্তা, ‘যে সময়টায় তারা দেশের জন্য কিছু করবে, তখনই…। আমরা এভাবে সময় নষ্ট করতে চাই না। কারণ জোর করে খেলিয়ে লাভ হয় না। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচ। এটা মানসিক খেলা।’ এই সুযোগে ক্রিকেটারদের পেছনে বিস্তর বিনিয়োগের কথাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি নাজমুল, ‘বিব্রত ঠিক নই, তবে মন খারাপ। আমাকে যদি বলেন, মন খারাপ। বোর্ড একজন ক্রিকেটারের পেছনে ১০-১৫ বছর ধরে বিনিয়োগ করে। একটা তো হলো খেলাধুলা সম্পর্কিত চুক্তি। এর বাইরেও ওদেরকে যে সুযোগ-সুবিধা আমরা দেই, এটা তো আগে কখনো চিন্তাও করা যেত না।’ টেনেছেন নামি ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিককার ব্যর্থতার প্রসঙ্গও, ‘একটা জিনিস খেয়াল করেন, আজকে যারা দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে বিশ্বের নামকরা, প্রথম ১০ বছর বা ছয় বছর, ওদের গড় কেমন ছিল? ১২-১৫ করে গড় থাকত। আমরা তো তখন তাদের বাদ দেইনি। সময় দিয়েছি উন্নতি করার, তারপর তারা এই জায়গায় এসেছে।’

আরো পড়ুন

টি-স্পোর্টসে আজকের খেলা

টি-স্পোর্টসে আজকের খেলা

বাংলাদেশের প্রথম স্পোর্টস চ্যানেল টি-স্পোর্টস। দেশের খেলাধুলার পাশাপাশি এই চ্যানেল সার্বক্ষণিকভাবে সম্প্রচার করে চলেছে বিভিন্ন …