শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২
হোম » নির্বাচিত কলাম » সংসদে আইন পাস হলে রাজাকারের তালিকা তৈরি হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী,
সংসদে আইন পাস হলে রাজাকারের তালিকা তৈরি হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী,

সংসদে আইন পাস হলে রাজাকারের তালিকা তৈরি হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী,

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান করা ব্যক্তিরা রাজাকারের তালিকা তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ,বর্তমানে রাজাকারের তালিকা তৈরির জন্য সংসদে একটি আইন প্রস্তাব করা আছে।এটি পাস হলে রাজাকারের তালিকা তৈরি করা হবেশনিবার সকালে বরগুনার সার্কিট হাউস মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বরগুনা জেলা প্রশাসন তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শেষ দিন বরগুনার সার্কিট হাউস মাঠে ১২০০ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে সংবর্ধনা প্রদান করে জেলা প্রশাসন।

অনুষ্ঠানে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র ২১ বছর ক্ষমতায় ছিল।আওয়ামী লীগের থেকে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন না করা দলগুলো।ফলে দেশের সব সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান করা ব্যক্তিরা খুঁটি গেড়ে বসে ছিল।তারা রাজাকারের তালিকা তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।মন্ত্রী বলেন,জাতীয় সংসদে রাজাকারের সন্তানদের প্রতিনিধিত্ব করা রাষ্ট্রের জন্য অমর্যাদাকর এবং রাজাকারের সন্তানদের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া দুঃখজনক ও বিব্রতকর।গণতান্ত্রিক দেশে রাজাকারের সন্তানরা যখন নির্বাচিত হয়, তখন তাদের প্রতিহত করার সুযোগ থাকে না সরকারের।

জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছেএদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন, সরকার জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে শিশুদের কবিতা আবৃত্তি,চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন,আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সত্য ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

আমি বলব,অপচেষ্টা হচ্ছে।দেশকে এই ধরনের অপরাধ থেকে মুক্ত করতে হবে।যার যা প্রাপ্য সেটা তাকে দিতে হবে।গণতন্ত্রের জন্য,গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পুরণের জন্য সে সময়ে যারা রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদেরকেও আমাদের শ্রদ্ধা করতে হবে, তারাও শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য।কিন্তু কাউকে কোনো মর্যাদা না দিয়ে,কারেও প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতাবোধ না জানিয়ে শুধুই যদি আমরা কেউ নিজেরা এই গৌরবকে দখল করতে চাই এটা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, এটা অন্যায়।অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ব্যক্তিদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়াসহ তার দুই সন্তান পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কারাগারের মাসের পর মাস কাটাতে হয়েছে। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য আমাদের, যিনি ৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর কারাগারে দুই সন্তানসহ বন্দিজীবন কাটিয়েছেন আজকে আবার এই সরকারের আমলে মিথ্যা অভিযোগ কারারুদ্ধ হয়ে থাকতে হচ্ছে দারুণ অসুস্থ অবস্থায়।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আজ তাদের পতাকা র‍্যালিতে অভিযোগ করেছে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পঞ্চাশ বছর পার হলেও আজ অবধি এদেশের মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত।স্বাধীনতা পাওয়ার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নামীয় সরকার আজ পর্যন্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কর্তৃক আয়োজিত পতাকা র‌্যালিটি বাইতুল মোকাররম উত্তর গেইটে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টন চত্ত্বরে এসে সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সংক্ষিপ্ত দোয়া ও মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।পতাকা র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন,বাংলাদেশের বিজয়কে অস্বীকার করে ভারতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ৭১ এর বিজয়কে পাকিস্তানের সাথে তাদের সৈন্য বাহিনীর বিজয় বলে বক্তব্য দেয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে।ভারতপ্রেমী নৈশ ভোটের সরকার আজ পর্যন্ত জোরালো প্রতিবাদ জানাতেও সক্ষম হয়নি।

বরং সরকারের মন্ত্রী এমপিদের ভারতের প্রতি মায়াকান্না দেখে ভাবতেও কষ্ট হয়ে যায় মন্ত্রী-এমপিরা বাংলাদেশের নাকি ভারতের?মুফতী ফয়জুল করীম আরও বলেন, বিজয়ের এই মাসে দেশের প্রশাসনের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীলদের মার্কিন সরকারের কালো তালিকাভুক্তি দেশের মানুষের জন্য বড় লজ্জার ও বিষ্ময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।জনগণের মৌলিক অধিকার,ভোটের অধিকার, বাকস্বাধীনতা খর্ব করে জোর করে ক্ষমতা দখল করে রেখে সরকারের ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী হাজার হাজার কোটি টাকা অন্য দেশে পাঁচার করছে।অর্থ,স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাত সহ প্রায় সকল খাত আজ দূর্নীতিতে নিমজ্জিত ও ভঙ্গুর।সর্বত্র চুরি, ডাকাতি, দুর্নীতির কারণে দেশের বিজয় দিবস আজ কলঙ্কিত। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত এদেশের জনগণকে আবারও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

আরো পড়ুন

নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানার আগুন,

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট।শুক্রবার …