রাজনীতিলিড নিউজ

লজ্জার হার শমসের-তৈমুরের, ডুবেছে তৃণমূল বিএনপি

লজ্জার হার শমসের-তৈমুরের, ডুবেছে তৃণমূল বিএনপি

বিএনপির ওপর নানা ক্ষোভ থেকে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল বিএনপিতে। বলেছিলেন ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন। শেষ পর্যন্ত প্রার্থী দিয়েছেন ১৩৫ আসনে। তবে কেউই পাশ করেনি। জয় তো দূরের কথা, তৃণমূল বিএনপির শীর্ষ নেতারা ডুবেছেন লজ্জায়। 

রোববার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের মধ্যে কোনোটিতেই জিততে পারেনি তৃণমূল বিএনপি। ভরাডুবি হয়েছে দলটির চেয়ারম্যান সমসের মবিন চৌধুরী ও মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকারের।

সিলেট-৬ আসনে নির্বাচন করেছিলেন শমসের মুবিন চৌধুরী। এই আসনে জয় পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শমসের হয়েছেন তৃতীয়।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করেছিলেন তৈমুর আলম। এই আসনে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের (নৌকার) প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী। সেই আসনে তৈমুর আলম খন্দকার (তৃণমূল বিএনপি) সোনালী আঁশ মার্কায় ৩১৯০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

এছাড়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আসনে তাদের প্রার্থীরা ১ হাজার ভোটের কোটাও পার হতে পারেনি। ‘কিংস পার্টি’ খ্যাত তৃণমূল বিএনপির প্রতীক ‘সোনালী আঁশ’।

নির্বাচনের আগেই দলটির ভরাডুবি অনেকটা নিশ্চিত হয়েছিল। দলটির প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের চরম অসহযোগিতার অভিযোগ করছিলেন শুরু থেকেই।

এর আগে, রোববার সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নওগাঁ-২ আসনে পরে ভোট নেওয়া হবে। এবার ভোট নেওয়া হয়েছে ব্যালট পেপারে।

এবার নির্বাচনে লড়েছেন মোট ১৯৭১ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫৩৪ জন ২৮টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী। বাকি ৪৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সংখ্যা ২৬৬ জন। জাতীয় পার্টির ২৬৫ জন, তৃণমূল বিএনপির ১৩৫ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১২২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৬ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ৫৬ জন ভোটে অংশ নিয়েছেন।

নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ, আর ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। সারা দেশে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি, আর ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি।

ভোটগ্রহণ চলাকালে যশোর, লালমনিরহাট, বগুড়া ও রাজধানীর হাজারীবাগসহ কিছু জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম, জামালপুর, ফরিদপুরসহ আরও কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২২ জন।