বিনোদনসর্বশেষ সংবাদ

রোজিনার মগ্নতা

রোজিনার মগ্নতা

বিনোদন ডেস্ক: ৮০ দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রোজিনা প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্র পরিচালনা করছেন। তার প্রথম ছবি ‘ফিরে দেখা’র শ্যুটিং প্রায় শেষের দিকে। রোজিনা বলেন, ‘ফিরে দেখার প্রায় সব কাজ শেষ। একটু কাজ বাকি আছে। হাসপাতালের একটা শ্যুটিং বাকি আছে। এর মধ্যে ডাবিংটা শেষ করব। অনুদানের সিনেমা ধাপে ধাপে জমা দিতে হয়। ৩০ পারসেন্ট জমা দিয়েছি।’

শিল্পী নির্বাচন নিয়ে বলেন, ‘গল্পের প্রয়োজনেই নিরব ও স্পর্শিয়াকে নিয়েছি। ওরাও অনেক ভালো কাজ করেছে। আমরা একাত্তরের ফ্লেভারটা আনার চেষ্টা করেছি। বেশকিছু স্থিরচিত্র প্রকাশও হয়েছে। নিরবকে একদম আলাদা গেটাপে দেখতে পাবে দর্শক। লুঙ্গি পরা, চেক শার্ট পরা। গল্পটার ধারা অনুযায়ী সব করার চেষ্টা করেছি।’

নিয়মিত পরিচালনা করার ইচ্ছে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো পরিচালনা করলাম। আমি চলচ্চিত্রের মানুষ। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও মনে হয় যে চলচ্চিত্রের সঙ্গেই থাকি। অভিনয় যে করার ইচ্ছে একদম নেই, তাও নয়। চরিত্র অনুযায়ী ভালো কিছু পেলে হয়তো করতেও পারি, তবে আগের মতো অতটা আগ্রহ নেই অভিনয়ে। গল্পভিত্তিক যদি ভালো চরিত্র পাই তাহলে অভিনয় করতে পারি।’

এখনো তারুণ্য ধরে রেখেছেন এই অভিনেত্রী। তারুণ্য ধরে রাখার রহস্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। কিছু বিষয় মেইনটেইন করি। খাবার দাবার থেকে শুরু করে লাইফস্টাইলে যতটা সম্ভব নিজেকে কন্ট্রোল করে চলি। ভাত খুব একটা খাই না। মাছ মাংসও কম খাই। হাঁটাচলা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই একটা রুটিনের মধ্যে থাকি। আর ভাজাপোড়ার প্রতি আমার আসক্তি কখনোই ছিল না। তরল জাতীয় খাবার বেশি খাই। জীবনের শুরু থেকেই নিজেকে মেইনটেইন করার চেষ্টা করে আসছি।’

রোজিনার প্রথম নায়ক ছিলেন ওয়াসিম। সদ্যপ্রয়াত এই নায়ককে নিয়েও স্মৃতিচারণ করলেন তিনি। রোজিনা বলেন, ‘আমি চলচ্চিত্রে এসেছি ১৯৭৭ সালে। আমার প্রথম ছবি ছিল ‘রাজমহল’। তিনি আমার প্রথম সিনেমার নায়ক। ওনাদের সিনেমা দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমায় এসেছি। আমি যখন জানলাম ওয়াসিম সাহেব আমার নায়ক তখন ভয় পেয়েছিলাম। তারপর শ্যুটিং শুরু হলো চার নম্বর ফ্লোরে। পরিচালক এফ কবির সাহেব পরিচয় করিয়ে দিলেন ওয়াসিমের সঙ্গে। প্রথম পরিচয়েই আপনি বলে ডাকতে শুরু করলেন। অনেক বিনয়ী, ভদ্র ছিলেন। পরে আমি তাকে বললাম আপনি না করে তুমি বা তুই করে বললে খুশি হব। পরে বললেন ধন্যবাদ। তাকে দেখার আগে ভয় পাচ্ছিলাম, কিন্তু দেখা হওয়ার পরে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাকে আপন করে নিলেন। মনে হলো আমরা কতদিনের পরিচিত। কাজের সময়েও অনেক হেল্প করতেন। রাজমহল ছবি মুক্তির পর তো সেই সিনেমাটা সুপারহিট। এরপর থেকে ছবি মানেই আমি আর ওয়াসিম ভাই। বিনি সুতোর মালা থেকে শুরু করে মানসী, আঁচলবন্দি অসংখ্য সিনেমা করেছি। আমার মনে হয় যে অন্যান্য হিরোর চেয়ে ওয়াসিম ভাইয়ের সঙ্গেই বেশি ছবি করেছি। প্রায় ৭০/৭৫টার মতো ছবি করেছি।’

ওয়াসিমের সঙ্গে বেশি ছবি করার কারণ কী ছিল জানতে চাইলে রোজিনা বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার রসায়নটা দর্শকরা গ্রহণ করেছিল, পরিচালক প্রযোজকরাও চাইতেন। সে জন্যই সবচেয়ে বেশি ছবি করা হয়েছে। নিজেদের ভেতর বোঝাপড়াটা ভালো ছিল, একাত্মতা ছিল। ছবিও ভালো ছিল। সব মিলিয়ে প্রযোজকরা ভাবতেন আমাদের নিলেই ছবি ব্যবসা সফল হবে। সে জন্যই বেশি ছবি করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াসিম সেটের মধ্যে গম্ভীর মুখে বসে থাকতে পারতেন না। জোক বলে সবাইকে হাসাতেন। বডি বিল্ডার ছিলেন। নেশাজাতীয় কিছু পান করতেন না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। বাংলা সিনেমা যতদিন থাকবে ততদিনই ওয়াসিম থাকবেন।’