শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১
হোম » অপরাধ » ‘মুনিয়ার আত্মহত্যা কেন?

‘মুনিয়ার আত্মহত্যা কেন?

 রাজধানী ঢাকার গুলশানে একটি বাসা থেকে  মোসারাত জাহান ওরফে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে। তাকে বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আনভীর আগাম জামিনের আবেদন জানালেও তার শুনানি হয়নি। মুনিয়ার মৃত্যু-হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে প্রশ্ন।

 মুনিয়ার লেখা কয়েকটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, মর্মান্তিক এ ঘটনার একটি বড় কারণ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। সামাজিক সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়েছে। পারস্পরিক সম্পর্কে নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। আমরা এখন কেউ কাউকে জানি না। কেন সামাজিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে তার কারণ আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। এই ঘটনাটি সামনে এসেছে বলে আমার জানতে পেরেছি। তবে এরকম ঘটনা নিশ্চয়ই অনেক ঘটছে। অনেকেই বলছেন, এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে। শুধু গুলশানের এই ঘটনা সামনে এসেছে বলে আমরা জানতে পারলাম। আমার কাছে মনে হয় একটি বড় বিষয় হচ্ছে আমাদের প্রচুর সামাজিক বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। আগে যখন আমরা একটা সামাজিক পরিমন্ডলে থাকতাম তখন আমাদের প্রতিবেশী যারা থাকতেন তাদের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে যাতায়াত করেছি। তারা কারা, তাদের ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনবোধ কেমন সেগুলো আমরা জেনেছি।পরস্পরের পাশে থেকেছি। কিন্তু এখন আমরা শহুরে জীবন অনেকটা বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছি। গুলশানের ঘটনায় যে মেয়েটির মৃতদেহ পাওয়া গেল দেখলাম- তরুণী একটি মেয়ে। ১৭ কিংবা ১৮ বছর তার বয়স। মেয়েটি একা একা একটি ফ্লাটে ছিল। কিভাবে? তাছাড়া যার সাথে একটি সম্পর্ক নিয়ে কথা বলা হচ্ছে তারসাথে কিভাবে পরিচয় বা সম্পর্ক সেটাও আমরা জানি না। সমস্ত বিষয়ের একটি বড় কারণ হচ্ছে আমাদের সামাজিক কাঠামোটা পরিবর্তিত হয়ে গেছে, সামাজিক সম্পর্কটাও পরিবর্তিত হয়ে গেছে। সেখানে পারস্পরিক নির্ভরতার বদলে প্রচুর পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে।

যেসব কারণে এধরনের ঘটনা ঘটছে আমাদেরকে সেই কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এখানে আমি শুধু দুজন ব্যক্তিকে আনতে চাই না। আমি সামাজিক সমস্যাটাকে আনতে চাই। এধরনের ঘটনা কেন ঘটছে? কেন সামাজিক সম্পর্কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে? আমরা এটা হয়তো প্রিভেন্ট করতে পারতাম যদি আগে থেকে ঘটনাটা জানা যেত অথবা কি বিষয়ের সাথে জড়িত সেটা জানা যেত।

অধ্যাপক সালমা আক্তার: দেখুন, আমি বলব যে, শুধুমাত্র বিত্তশালীরাই পার পেয়ে যাচ্ছেন এ ধরনের ঘটনায় শুধু তাই নয়;গত কয়েকবছর ধরে আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে সেখানে হাতে গুণে বলা যায় দু একটি ঘটনা ছাড়া কোনোটারই বিচার হয় নি সেভাবে। ভিকটিম এবং যারা জড়িত ছিলেন কোনো ক্রাইমের সাথে তাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন বিত্তশালীদের বিচার প্রক্রিয়ার আনার বিষয়টি আছে কি না সেভাবে! আরেকটি বিষয় হচ্ছে সবকিছু মিলিয়ে আদৌ আমরা একটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির মধ্যে যাচ্ছি কি না?

আরেকটা বিষয় হচ্ছে কোনো বড় ধরনের ক্রাইম হলেও ঘটনার কিছুদিন পর থেকে আমরা বিষয়টি ব্যাক্তিগত ক্রাইম হিসেবে দেখতে শুরু করি। যে পরিবারগুলো ঐসব ঘটনার সাথে জড়িত থাকে তারাই দীর্ঘদিন বিচার প্রাপ্তির আশায় ঘুরতে থাকে। কিন্তু খুব দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তারাও একসময় হতাশ হয়ে যায়।

আরো পড়ুন

আবারও এক দফা লকডাউন বাড়ছে

দেশে করোনাভারাসের সংক্রমণ রোধে আগামী ১৬ মের পর থেকে । সেইসঙ্গে শতভাগ মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক …