রাজনীতিলিড নিউজ

ভোট ঠেকাতে বহুমুখী কৌশলে মাঠে বিএনপি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করে সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে বিএনপি। এখন তাদের চাওয়া, ভোটে জনগণের অংশগ্রহণ রোধ করা। এজন্য বহুমুখী কৌশলে মাঠে নেমেছে দলটি।

তবে আওয়ামী লীগ যথারীতি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দলের হাইকমান্ড অসহযোগ কর্মসূচীর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। যেখানে বিভিন্ন পেশাজীবী সম্প্রদায়কে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে।

এরই অংশ হিসেবে বুধবার থেকে অসহযোগ আন্দোলনের জন্য লিফলেট বিতরণ শুরু করে বিএনপি নেতারা। রবিবার থেকে জনসাধারণের সমন্বয়ের সঙ্গে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতির আরও অনুকূলে রাখার প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানায় ওই সূত্র।

নেতাকর্মীরা কারাগারে থাকলেও নির্বাচন বয়কটের চলমান আন্দোলনের পাশাপাশি অন্য কর্মসূচিও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

যদিও নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা।

তৃণমূল নেতারা নির্বাচনকে ভিন্নমত প্রকাশের বিকল্প পদ্ধতি হিসাবে দেখে আন্দোলনে থাকার কথা জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “জনসাধারণ ধীরে ধীরে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসবে। বিএনপি এ দিকে সাধারণ জনগণকে শুধু পথ দেখাচ্ছে।”

সম্প্রতি অসহযোগ আন্দোলন নামে নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে।

তবে এই আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন কর্মসূচি গ্রহণের কথা ভাবছেন নেতারা।

যদিও হরতাল-অবরোধের মতো পূর্ববর্তী উদ্যোগে শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা উল্লেখ করে অসহযোগ কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতারা।

রাজশাহী জেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, “ঢাকার বাইরে অসহযোগ আন্দোলন এখনো গতি পায়নি। জেলা পর্যায়ের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সম্ভাব্য পুলিশি পদক্ষেপের কারণে সিনিয়র নেতারা মাঠে আন্দোলনে যোগ দিতে ব্যর্থ হলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা অনুপ্রেরণা হারাতে পারে।”

নির্বাচনী তফসিলের প্রতিক্রিয়ায়, দলের নির্বাচনী কৌশল থেকে বিচ্যুত কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের ২৫ জনের বেশি নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, সরকারের জন্য দলটির অনমনীয় অবস্থা ও আন্দোলন কর্মসূচি জোরদার করার সক্ষমতা না থাকাই এই নাজুক অবস্থার জন্য ভূমিকা রেখেছে।

সম্প্রতি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বরিশাল বিভাগের এক নেতা বলেন, “দলের এক দফা আন্দোলনে সরকারের সাথে সংলাপের আহ্বান নেই। বিষয়টির কারণে তিনি এখন অন্য দলের প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।”

এক দফা আন্দোলনের সময় দুই পক্ষের কোনো সংলাপের আগ্রহ না থাকার কথা স্বীকার করেছেন নেতারা।

তবে জনগণকে বিএনপি যেসব আহ্বান জানাচ্ছেন তা কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি জনগণকে আদালতে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকা, আয়কর দেওয়া বন্ধ রাখা ও নির্বাচন পর্যন্ত ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

২৯ ডিসেম্বর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

এই সময়ে বিএনপি কীভাবে অসহযোগ আন্দোলন ও মিশ্র কর্মসূচি নিয়ে এগোবে এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য নিশ্চিত বলেন, “আমরা আমাদের আন্দোলনে অবিচল থাকব। আমাদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটের অধিকারকে কেন্দ্র করে, জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে দেওয়া। তাই, ব্যক্তিরা অসহযোগিতার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, সক্রিয়ভাবে ভোটকেন্দ্র এড়িয়ে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে।”

অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে কারাগারে থাকা বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আদালতে হাজির না হননি। একইভাবে দলের সদস্যদের একই পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানান। আদালত জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও বিএনপি নেতারা অনড় রয়েছেন।

বনানী থানায় দায়ের করা দুই মামলায় হাজিরা থেকে বিরত রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ফলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ব্যবস্থা নিয়েছেন।

বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা জোর দিয়ে বলেন, “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ও বিজয় দিবসে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সমানতালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে অংশ নেবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আবদুল মঈন খান বলেন, “আমরা অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছি, তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। সমালোচনা অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত প্রাধান্য পায়। এটাই গণতন্ত্রের ভাষা ও পদ্ধতি।”