গণমাধ্যমলিড নিউজ

ভোটার উপস্থিতি সবচেয়ে কম রাখতে চায় বিএনপি

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ‘ভোটার উপস্থিতি’ নিয়ে বিপরীতমুখী লক্ষ্যে এগোচ্ছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ চাইছে নানা কৌশলে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে। অন্যদিকে বিএনপির পরিকল্পনা থাকবে, ভোটার উপস্থিতি একেবারে ‘সর্বনিম্ন’ পর্যায়ে নামিয়ে আনা। ভোটার উপস্থিতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে ইতোমধ্যে ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছে বিএনপি। চলমান আন্দোলনের গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। এরই অংশ হিসেবে আগামী ১ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটি কঠোর কর্মসূচি দিয়ে সর্বশক্তি নিয়ে রাজপথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভোটের পরেও দলটি নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান আমাদের সময়কে বলেন, ‘ভোট বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বর্তমান গণপ্রতিনিধিত্বহীন সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার কায়েম করতে রাজপথে আছি। মানুষকে সচেতন করতে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করছি। জনগণের ভোটাধিকারসহ মৌলিক অধিকার এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো এবারও কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম হোক, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে ভোটের আগে ‘গণকারফিউ হরতাল’; ‘লকডাউন হরতাল’ কিংবা অন্য কোনো নামে কর্মসূচি বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। এই কর্মসূচি পালনে জনগণের দ্বারে দ্বারে লিফলেট পৌঁছে দিচ্ছে দলটি।

দলের একাধিক সূত্রে জানা যায়, চলমান যুগপৎ আন্দোলনের সঙেঙ্গ যুক্ত এবং এর বাইরে থাকা ভোটবর্জনকারী ডান, বাম ও ইসলামপন্থি ৬২টি রাজনৈতিক দলেরও সর্বশক্তি রাজপথে দেখতে চায় বিএনপি। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির স্থায়ী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা আমাদের সময়কে বলেন, ভোট বর্জনের আন্দোলন ঘিরে সমমনা সব রাজনৈতিক দল সামর্থ্য অনুযায়ী মাঠে থাকবে। ভোটের আগে ও পরের কর্মসূচি বিষয়ে সমমনা সব দলের মতামত নিয়ে আগামী শুক্র ও শনিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠকে বসে কর্মসূচি চূড়ান্ত করবে।

জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা আমাদের সময়কে বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারির ভোট ঘিরে তারা সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে থাকবে। ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১-৮ জানুয়ারির ভোট বর্জনের আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে আরও সম্পৃক্ত করতে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এ কর্মসূচি চলতে পারে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এদিকে বিএনপির পাশাপাশি লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট। এ তালিকায় আছে- ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ, ড. রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম (মন্টু), পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ৭ জানুয়ারির পর নির্বাচন বাতিলের দাবিতে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বিএনপি ও সমমনা দলের নেতাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশা অনুযায়ী এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। ভোটার উপস্থিতিও কম থাকবে। এতে করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন হচ্ছে না ধরে নেওয়া যায়। ফলে গণতান্ত্রিক বিশ^ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে ভিসানীতি প্রয়োগ করবে এবং ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার চাপে পড়বে। এর সঙ্গে হরতাল-অবরোধ কঠোরভাবে পালন করে সরকারকে আরও চেপে ধরার চেষ্টা করবে বিএনপি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির এক নেতা বলেন, দেশি-বিদেশি এই চাপ আওয়ামী লীগের পক্ষে সামলানো সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে সরকারকে বিদায় নিতেই হবে।