শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

বেশিরভাগ মানুষই কেমন যেন মেন্টাল ট্রমায় ভুগছে

কাজী ওয়াজেদ

প্রথমেই বলে নেই আমি কিন্তু কোনো ডাক্তার না। তবে ইদানীং মানুষজনের সাথে কথা বলে মনে হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষই কেমন যেন মেন্টাল ট্রমায় ভুগছে। সুস্থ মানুষগুলোও শুধু শুধুই করোনা আতংকে ভুগে মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

ইদানীং বন্ধুজন সহ পরিচিত মহলে কারো সাথে কথা বললেই বলছে গলায় খুশখুশে ভাব। আবার কেউ বলছে গলা সামান্য ব্যাথা ব্যাথা করছে। একই ব্যক্তি কথার শেষে সবকিছু উল্টে বলছে আসলে তার গলায় কোনো ব্যাথাই নেই। কেউ আবার বারবার গলা টিপে দেখছে। বারবার গলা টিপাটিপি করতে যেয়ে সুস্থ গলাটা সন্দেহবশত টিপতেটিপতেই ব্যাথা করে ফেলছে। ওনাদের কথা শুনে আমার ধারণা হচ্ছে বাস্তবে আসলে তেমন কিছুই হয়নি ওনাদের। আসলে ব্যাপারটা পুরোটাই মানসিক অস্থিরতা থেকে বলা হচ্ছে।

কেউ কেউ আবার সারাদিন থার্মোমিটার নিয়ে বসে থাকছে। কোনরূপ শারীরিক উত্তাপ ছাড়াই দশ মিনিট পরপর সন্দেহবশত টেমপারেচার মাপছে, কপালে হাত দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করছে। কেউ কেউ একটুতেই শরীরে ব্যাথা বলে চালিয়ে দিচ্ছে। বারবার দুশ্চিন্তায় কেউ কেউ নিজে থেকেই নিজের নিশ্বাস ভারি করে শ্বাসকষ্টের অবস্থা সৃষ্টি করছে।

কেউ কেউ কাজ কর্ম বাদ দিয়ে সারাদিন করোনা নিয়ে নিজে নিজেই গবেষণা করছে। করোনা নিয়ে নিজস্ব ভাবনা থেকে নিজে থেকেই বিভিন্ন টোটকা বের করে সবাইকে শেয়ার করছে। অথচ নিজের শরীরে প্রকৃতপক্ষে করোনার লক্ষণ থাকা সত্বেও অনেকে আবার সেটা গোপন করছে এবং পরীক্ষা না করে সাধারণ মানুষজনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আমি নিজেও করোনা টেস্ট এবং রিপোর্ট প্রাপ্তির আগে এমনই আতংকে ভুগছিলাম। অহেতুক বারবার মনে হচ্ছিল সত্যিই বোধহয় করোনায় আক্রান্ত হলাম। এমনকি ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটেছে। অথচ রিপোর্টে দেখা গেল করোনা নেগেটিভ। এ সময় দুই একজনের কাউন্সেলিং আমার বড় কাজে লেগেছে। সবসময় ভেবেছি করোনা হলেও সেটার সুচিকিৎসা তো আছেই। কাজেই খারাপটা ধরে নিলেও এতে এত চিন্তার কি আছে ?

নিজের সামান্য অভিজ্ঞতা থেকে মনে হলো আসলে বিষয়টা সম্পূর্ণ মানসিক। করোনা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কারনেই মানুষের মধ্যে করোনা ভীতি ঢুকে গেছে। শরীরে কোনরূপ লক্ষণ না থাকা সত্বেও মানুষ মনে করছে এই বুঝি সে মারা যাবে। অথচ করোনায় মৃত্যুর হার খুবই কম। বরং সচেতন থাকলে ক্যানসারের মত ভয়াবহ রোগের চেয়েও খুব ভালভাবেই করোনা মোকাবিলা করে সুস্থ হয়ে যাওয়া ৯৯% নিশ্চিত।

করোনার বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে এটা এখন এই সময়ের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু। করোনা একটা মারাত্মক ছোয়াচে রোগ, এজন্য আমরা অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, ঘরে থাকা, সার্বক্ষনিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলা এবং করোনামুক্ত থাকার জন্য যা যা করনীয় তা করবো।

কিন্তু তাই বলে সারাক্ষণ মনের মধ্যে করোনা রোগী না হয়েও নিজেকে অহেতুক করোনা রোগী ভেবে ভেবে দুশ্চিন্তা করে নিজের শরীর নষ্ট করা এবং নির্ঘুম থেকে অহেতুক চিন্তা করে শরীরে অন্য কোনো রোগের বাসা বাধার সুযোগ সৃষ্টি করাকে করোনা আতংক থেকে এটা এক ধরনের মেন্টাল ট্রমা বলেই আমার ব্যক্তিগত অভিমত।

দেখা যাবে করোনা চলে গেলেও দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তার কারনে আমরা সবাই কমবেশি মেন্টাল সিক হয়ে গেছি। বেশিরভাগ সুস্থ মানুষগুলোর মধ্যেই ইতোমধ্যে এই লক্ষণগুলো ইদানীং খেয়াল করছি। ডাক্তার না হয়েও আমার কাছে মনে হয় এই অবস্থা উত্তরণের জন্য সবারই একটু মেন্টাল সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন। তাতে করে বিনা কারনে মানসিক অস্থিরতা অনেকটাই কমবে বলে আমার বিশ্বাস।

সাইকোথেরাপি সবার জন্য সম্ভব না হলেও নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় অন্তত আমরা একজন আরেকজনকে কাউন্সেলিং করতে পারি, অভয় দিতে পারি, ভরসা রাখার মত এবং অহেতুক আতংকিত না হয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার জন্য সাহস যোগাতে পারি। যেহেতু দুশ্চিন্তার তেমন কোনো ঔষধ নেই কাজেই নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষনিক পজেটিভ আলোচনার মাধ্যমেই মানসিক সাহস সৃষ্টির লক্ষ্যে সবসময় উৎফুল্ল থেকে করোনা নামক ভয়কে জয় করতে পারি। সবাই সুস্থ থাকি, দুশ্চিন্তামুক্ত এবং নিরাপদ থাকি।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সূত্রাপুর থানা, ডিএমপি

আরো পড়ুন

সোহেল তাজ ও শাহ আলী ফরহাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য: ফেবুতে আলোড়ন

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের পুত্র ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ আজ সন্ধ্যা সাতটায় …