মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

‘বাজি’ যখন বাইডেন

আমেরিকার নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের পক্ষেই বাজি ধরছেন বিনিয়োগকারীরা। তাঁরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউসে জো বাইডেন আসছেন এবং তিনি বড় অঙ্কের প্রণোদনা দেবেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ অর্থনীতিকে জাগিয়ে তুলবে। এমন সম্ভাবনা থেকেই সোমবারের ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবারও শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছে।

গতকাল সকালের লেনদেনে লন্ডনের এফটিএসই-১০০ সূচক বেড়েছে ১.৭ শতাংশ, ফ্রান্সের ক্যাক-৪০ সূচক বেড়েছে ২.১ শতাংশ এবং একই মার্জিনে বেড়েছে জার্মানির ড্যাক্স সূচক। গত মার্চের পর সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহ পার হওয়ার পর ওয়ালস্ট্রিট দুই দিন ধরেই উত্থানে রয়েছে। গতকাল দাও সূচক বেড়েছে ১.৩ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি-৫০০ বেড়েছে ১ শতাংশ এবং নাসডাক বেড়েছে ০.৯ শতাংশ।

এদিকে টানা দুই দিন উত্থানে রয়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারও। গতকাল হংকং শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে ২.০ শতাংশ, সাংহাইতে ১.৪ শতাংশ, সিঙ্গাপুর ও সিউলে সূচক বেড়েছে ১.৯ শতাংশ এবং ১ শতাংশের বেশি উত্থান হয়েছে মুম্বাই, তাইফে ও ব্যাংককে।

অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন জো বাইডেন। এই মুহূর্তে আমেরিকার করোনা কাটিয়ে অর্থনৈতিক জাগরণে বড় অঙ্কের প্রণোদনা চান বিনিয়োগকারীরা। তাঁদের মতে, সেই প্রণোদনা ডেমোক্র্যাটরাই দেবেন, যদিও রিপাবলিকানদের নীতি ট্রাম্পের পক্ষেই ছিল।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে, ব্লু ওয়েব বা বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউস ও সিনেট পুনরুদ্ধার করবেন, একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন। একইভাবে জেপি মরগানের এক পূর্বাভাসেও ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের কথা বলা হয়েছে। রেটিং সংস্থা মুডিসের বিশ্লেষকরা বাইডেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, যদি বাইডেনের অর্থনৈতিক প্রস্তাব কাজে লাগানো হয় তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবের চেয়েও ৭৪ লাখ বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ২০২২ সালের দ্বিতীয় ভাগেই অর্থনীতি পুরোপুরি কর্মসংস্থানে ফিরবে, যা ট্রাম্পের পরিকল্পনার দুই বছর আগেই সম্ভব হবে।

গত সেপ্টেম্বরে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের ওপর করা ইয়েল স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের এক জরিপে দেখা যায়, ৭৭ শতাংশই বাইডেনকে ভোট দেবে। ৬০ শতাংশের বেশি বলেছে তিনি জিতবেন। যদিও অক্টোবরে ৫০০ ব্যবসায়ী ও এক হাজার বিনিয়োগকারীকে নিয়ে ইউবিএসের এক জরিপে দেখা যায়, ৫৫ শতাংশ ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে আবার ক্ষমতায় চান, ৫১ শতাংশ বিনিয়োগকারী বাইডেনকে চান। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ব শেয়ারবাজারে উত্থান ঘটলেও করোনা মহামারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিএমসির মার্কেট বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাডেন। তিনি বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণে ইউরোপের অনেক দেশে চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও কমে যাবে।’

উদ্বেগ কাটছে না ট্রাম্পকে নিয়েও। অর্থনীবিদরা বলছেন, করোনার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন একটি বড় ঝুঁকি বাণিজ্যযুদ্ধ। যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার বিজয়ী হন তবে চীনের বিরুদ্ধে তিনি যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু কমরছেন, তা ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়বে। ফলে করোনার এ সময়ে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে ইউরোপের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সূত্র: সিএনএন মানি, এএফপি।

আরো পড়ুন

বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো যাবে

বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো যাবে

বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর  সুযোগ রেখে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল-২০২০’ …