সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১
হোম » আন্তর্জাতিক » বাইডেন প্রশাসনকে ইসরায়েলের ব্যাপারে স্পষ্ট হতে হবে
বাইডেন প্রশাসনকে ইসরায়েলের ব্যাপারে স্পষ্ট হতে হবে

বাইডেন প্রশাসনকে ইসরায়েলের ব্যাপারে স্পষ্ট হতে হবে

সাম্প্রতিক প্রত্যেকটি মার্কিন প্রশাসনই গদিনশিন হয়ে অগ্রহণযোগ্য সব আচরণ করেছে। সবাই এ ব্যাপারে একমত, তারা মার্কিন আইনকে অবজ্ঞা করার জন্য ‘গোপন নথিপত্র’কে অনুমোদিত করে স্বাক্ষর করেছে যে তারা কিছু স্বীকার করবে না; অথচ এসব সবাই জানে। তারা বলবে না যে ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আছে।

এ যুক্তির একটা কারণ হলো, জনগণকে ইসরায়েলের সক্ষমতার বিষয়ে তারা অবহিত করবে না; ইসরায়েল যে কয়েক ডজন শহর ধূলিসাৎ করে দিতে পারে এ ব্যাপারে জনগণকে কিছু ধারণা করতে দেবে না। এ ব্যর্থতা অর্থাৎ ইসরায়েলের ভয়ংকর অস্ত্রভাণ্ডারের হুমকির সম্মুখীন হওয়ার ব্যর্থতা; এ আচরণ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা ও দায়মুক্তির ধারণা দেয় এবং ইসরায়েলকে অন্যদের ওপর শর্ত আরোপ করার বিষয়ে অনুমোদন দেয়।

কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের উটপাখিসুলভ আচরণের অন্য একটি ইফেক্ট হলো, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজের আইনকেই কার্যকর করার বিষয়টি এড়িয়ে যায়, যে আইন পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তারের জন্য মার্কিন করদাতাদের টাকা খরচ বন্ধ করার কথা বলে।

ইসরায়েল কার্যত একটি বহুমুখী পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তারকারী দেশ। যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে ইসরায়েল ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকারের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল, এমনকি যৌথভাবে এ অস্ত্রের একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল। মার্কিন সরকার এসব ঘটনা চেপে রাখার চেষ্টা করেছিল। উপরন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনো পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।

অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরকার মাশরুম ক্লাউড আগোয়ান—এই মিথ্যা যুক্তি তুলে ইরাকে আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করেছিল। পরমাণু অস্ত্রবিষয়ক ইসরায়েলি হুইসেব্লোয়ার মরদেকাই ভানুনু বলেছেন : পারমাণবিক অস্ত্র ইরাকে ছিল না; বরং তা ইসরায়েলে আছে।

সাবেক সিনেটর স্টুয়ার্ট সিমিংটন ও জন গ্লেনের ফরেন অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাক্টে সংশোধনী—পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তারকারী এবং যেসব দেশ পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করে তাদের মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতাদানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ভারত ও পাকিস্তানের ওপর এমন শর্ত আরোপ করেছিলেন।

কিন্তু কোনো প্রেসিডেন্টই ইসরায়েলের ওপর শর্ত আরোপের কাজ করেননি; বরং উল্টো কাজই তাঁরা করেছেন। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সময় থেকে একটি মৌখিক চুক্তি বা বোঝাপড়া রয়েছে, আর সেটি হলো ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়ার ‘গোলমেলে ব্যাপাটি’ মেনে নাও। এর মানে হলো ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের মাধ্যমে শক্তিধর হওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করে নাও, তবে সরাসরি এর জন্য কোনো দায় বোধ কোরো না।

প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় থেকে, দি নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনের ভাষ্য মতে, এই গোপন নথির বিষয়গুলো বহাল রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ও রাজনীতিকরা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চান না যে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। মার্কিন আইনে এ ব্যাপারে রেয়াত আছে। ফলে ইসরায়েলকে অর্থ সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখা যাবে, যদি প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে সার্টিফাই করেন যে কোনো পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তারকারীকে সহায়তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

ইসরায়েলের পার-ক্যাপিটা জিডিপি ব্রিটেনের প্রায় সমতুল্য। এতদসত্ত্বেও ইসরায়েলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা হিসেবে করদাতাদের টাকা থেকে যা দেয় তা যেকোনো দেশকে দেওয়া সহায়তার চেয়ে বেশি। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে হিসাব করলে তার পরিমাণ (যা পাবলিকলি জানা) বিগত সময়ে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে উপনীত হয়েছে।

এই প্রহসনের ইতি ঘটা উচিত। মার্কিন সরকারের উচিত তার আইনকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা এবং ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা। কারণ ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র জমা করছে এবং এর বিস্তার ঘটাচ্ছে।

আসন্ন বাইডেন প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে হবে যে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তারের নেতৃস্থানীয় স্পন্সর এবং তাদের সঠিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যান্য সরকারকে, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আইনের শাসনের ব্যাপারে বাধ্য করতে হবে, অর্থপূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে কথা বলতে হবে এবং অবিলম্বে মার্কিন সরকারকে কড়া ভাষায় বলতে হবে যে এ ব্যাপারে তাদের সক্রিয়তা দেখাতে হবে।

বর্ণবাদ দক্ষিণ আফ্রিকায় খুবই ভয়ংকর ছিল। এটা ইসরায়েলে আরো ভয়ংকর। কারণ তারা নিজস্ব বর্ণবাদের চর্চা করে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে। কার্যত আরেকটি মার্কিন আইন, দ্য লিহি ল, সেই সব সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তাদানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যারা ধারাবাহিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে।

ইসরায়েলের বর্ণবাদ দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদকেও ছাপিয়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ ইসরায়েল তার নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পেরেছে শুধু সৈনিকদের বন্দুক ব্যবহার করে নয়, বরং লাখ লাখ লোকের মাথা বরাবর পারমাণবিক বন্দুক টার্গেট করেও তারা টিকে আছে। ফিলিস্তিন বা অন্যান্য আরব দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের সন্ধান করে এ সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না। সমাধানটা হলো শান্তি, ন্যায়বিচার ও নিরস্ত্রীকরণ।

দক্ষিণ আফ্রিকা শিখেছে যে প্রকৃত শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করায় প্রকৃত সত্যকে স্বীকার করতে হয়। এতে সমাজতাড়িত হবে সহাবস্থানের দিকে, মিলনান্তক সমাজের দিকে। কিন্তু সত্যকে অস্বীকার করলে কিছুই মিলবে না। কিছু সত্য আছে যার মুখোমুখি হওয়া কঠিন, তবে তা পারমাণবিক শক্তিধর কোনো বর্ণবাদী সরকারকে মোকাবেলা করার চেয়ে বেশি কঠিন নয়।

আরো পড়ুন

খুব শিগগিরই কভিড ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ

খুব শিগগিরই কভিড ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) ভ্যাকসিন বাংলাদেশ খুব শিগগিরই পাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

+ 63 = 66