শিক্ষা

পাঠ্যবই হাতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস – নির্বাচনের পর ক্লাস শুরু

পৌষের সকালের হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে স্কুলে পৌঁছে নতুন পাঠ্যবই হাতে পেয়েছে প্রাথমিক স্কুলের শিশুরা। কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত বই বিতরণ উৎসব প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা নেচে-গেয়ে উল্লাস করে,প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন নেড়ে বেলুন উড়িয়ে সৃষ্টি করে এক অপরূপ দৃশ্যের। হাজার-হাজার শিক্ষার্থী সবাই নতুন বই উঁচু করে নাড়াতে থাকে। কেউ নতুন বইয়ের গন্ধ নিচ্ছে, কেউ প্রথম সুযোগে পৃষ্ঠা খুলে দেখছে। শিশুদের এই উচ্ছ্বাসে যেন মলিন হয়ে যায় সকালের শীত।

গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বই বিতরণ উৎসবে যোগ দেয় ঢাকার ২১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনেক অভিভাবকও যোগ দেন। বই বিতরণ করা হলেও নির্বাচনী আবহে এখনো ক্লাস শুরুর তারিখ ঘোষণা করেনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে রাজধানীর কয়েকটি স্কুল ক্লাস রুটিন প্রকাশ করেছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। উৎসব উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহাম্মদ। অনুষ্ঠানে ছোট শিশুরা গান, নৃত্য পরিবেশন করে বই বিতরণ উৎসবকে ভিন্নতা দেয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার বই উৎসব করতে পারলেও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুমোদন না পাওয়ায় এই আয়োজন করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন স্কুলে নিজ শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী। মূলত এ জন্যই তাদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে উৎসব করা হয়নি।

বনশ্রী ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল কর্তৃপক্ষ গতকাল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করেন। এ সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আগামী ১৫-২০ জানুয়ারির মধ্যে ক্লাস শুরুর চিন্তা রয়েছে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দ্রুত আমরা ক্লাস শুরুর তারিখ জানিয়ে দেব।’ নির্বাচনের পর ১২-১৩ তারিখ থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী।

স্কুলগুলোয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পুরো সেট পাঠ্যবই পায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা। এজন্য গতকাল কোনো কোনো স্কুলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করেননি। আবার কোথাও কোথাও চার-পাঁচটি করে বই দেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজারের মতো নতুন বই বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিকে বই ৯ কোটি ৩৮ লাখের বেশি এবং মাধ্যমিক স্তরের বই ২১ কোটি ৩২ লাখের বেশি। প্রাথমিকের সব বই ছাপা হয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিকের সব বই ছাপা শেষ হয়নি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও প্রথম দিনে ছয় থেকে আটটি করে বই পাবে। এই দুই শ্রেণির অবশিষ্ট বই সর্বোচ্চ ১০ জানুয়ারির মধ্যেই শিক্ষার্থীরা পেয়ে যাবে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ?্যাল?য়ে বই উৎসবের উদ্বোধন ক?রেন জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান। বছরের প্রথম দিনে বিদ্যালয়টির ১ হাজার ২৬০ জন ছাত্র নতুন বই পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ ক?রে। এ ছাড়া জেলার অন?্যান?্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়া হয়ে?ছে।

নাটোর : নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই উৎসব উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভূঞা। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, এবতেদায়ি, দাখিল ও কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন তিনি।

নড়াইল : নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোলা : ভোলায় উৎসবমুখর পরিবেশে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর জেলার এক হাজার ৫৫৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের ৭ লাখের অধিক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বই। ভোলার জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বই উৎসবের উদ্বোধন করেন।

জয়পুরহাট : জয়পুরহাটে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে ১১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৫টি নতুন পাঠ্যবই তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জয়পুরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে বই উৎসব উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খান। নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই আয়োজন করা হয়।

লালমনিরহাট : সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং খোর্দ্দ সাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ। মাধ্যমিকে শতকরা ৫৮ ভাগ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ বই বিতরণ করা হয়েছে।

চাঁদপুর : জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার এবং মাধ্যমিক স্তরে সাড়ে ২২ লাখ বই বিতরণ করা হয়েছে। বাবুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বই উৎসব উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।

গাইবান্ধা : বই উৎসব উপলক্ষে গাইবান্ধা বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও শহরের মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথক তিনটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ভাটিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী।

মাগুরা : মাগুরায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ উৎসব উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সদর উপজেলার বেলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহামম্মদ আবু নাসের বেগ।

ঢাবি এলাকার দুই স্কুলে বই উৎসব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ এবং উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘বই উৎসব’ হয়েছে। গতকাল সোমবার এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।
উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত জাতি গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষাকে সব সময়ই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের মাধ্যমে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।