আন্তর্জাতিকসর্বশেষ সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ শুরু

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই দফায় কালিম্পংয়ের ১টি, দার্জিলিংয়ের ৫টি এবং জলপাইগুড়ির ৭ বিধানসভা আসনের সবগুলো, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টির মধ্যে ১৬টিতে, নদিয়ায় ১৭টির মধ্যে ৮টিতে এবং পূর্ব বর্ধমানের ১৬টির মধ্যে ৮টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে, আগে সম্পন্ন হওয়া চার দফার ভোটে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনার পর শনিবারের ভোট নির্বিঘ্ন করতে তৎপর কমিশন।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় রাজ্যের ৬টি জেলার ৪৫টি আসনে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিকে ভোটগ্রহণ ঘিরে আসনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী পঞ্চম দফায় ভোট হওয়া আসনগুলোতে পায়ের তলায় মাটিই ছিল না বিজেপির। তৃণমূল শক্তি প্রমাণ করতে পেরেছিল ভালোভাবেই। কিন্তু ক্রমেই লোকসভায় হাওয়া বদলেছে। এই ৪৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের ২২টিতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে ছিল বিজেপি। তাহলে কি বিজেপি এই আসনগুলোতে জয় পেতে চলেছে? পর্যবেক্ষকদের মত, পরিস্থিতি আলাদা, ভোটের শর্তও বদলেছে। শক্ত লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন তারা।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ৪৫টি আসনের ৩২টিতে জিতেছিল তৃণমূল। সিপিএম-কংগ্রেস জোটের জয় হয় ৫ আসনে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জয় হয় পাহাড়ের ৩ আসনে। কিন্তু লোকসভায় বিজেপির উত্থান শুরু হয় মূলত উত্তরবঙ্গে। জলপাইগুড়ি জেলায় মোট ৭ আসনের ছটিতেই জেতে বিজেপি। তৃণমূল ধরে রাখতে পেরেছিল রাজগঞ্জ। এবার কি এই সমীকরণ বদলাবে?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, জলপাইগুড়ি সদর, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি, রাজগঞ্জে বিজেপি-তৃণমূলের শক্ত লড়াই হবে। এখানে বামেরা লড়াইয়ে নেই বললেই চলে। অন্যদিকে পাহাড়ে দুই শিবিরই কার্যত বিজেপির ওপর নাখোশ। রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে বিজেপি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায়, কার্যত ক্ষুণ্ন তারা। এই ঘটনাই বিজেপির বিপক্ষে হাওয়া তৈরি করতে পারে।

পঞ্চম দফায় ভোট হচ্ছে উত্তর চব্বিশ পরগণার এক বিস্তীর্ণ অংশ। এই অঞ্চলে ২০১৬ সালে বিজেপির কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এমনকি লোকসভা ভোটেও বিজেপি ছিল হিসেবের বাইরে। ২০১৯ লোকসভা ভোটে বিজেপি এগিয়ে যায় বিধাননগর ও রাজারহাট-গোপালপুর এই দুই আসনে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার মতো উত্তর ২৪ পরগণা থেকেও জয় পেতে মরিয়া তৃণমূল।

ভোট রয়েছে নদিয়া জেলাতেও। এই জেলার আটটি আসনের পাঁচটিতে ২০১৬ সালে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। যদিও আটটি আসনেই লোকসভা ভোটে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তৃণমূল যদি নদিয়া পুনর্দখল করতে পারে তবে রাজ্যের ভোটসমীকরণ আমূল বদলে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

পূর্ব বর্ধমানে বিধানসভা তো বটেই, শেষ লোকসভাতেও বিজেপির কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। আটটি আসনের সাতটিতেই জেতে তৃণমূল। ফলে তৃণমূল চাইবে সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে উত্তর চব্বিশ পরগণা ও বর্ধমানে। আর উত্তরবঙ্গে রাজগঞ্জের মতো আসন যদি মেলে তবে তা হবে লাভের ওপর লাভ। পাহাড়ে বিজেপি পরিবর্তে যদি গোর্খাজনমুক্তি মোর্চার পক্ষেই হাওয়া থাকে তবেও তৃণমূলের লাভ।

উল্লেখ্য, পঞ্চম দফায় উত্তরে রাজবংশী ভোট ও উত্তর চব্বিশ পরগণায় মতুয়া ভোট বড় ফ্যাক্টর। বিজেপি তাই বারবার এই দুই গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও চেষ্টার ত্রুটি রাখা হয়নি।

আজ যেসব আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে: ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মাল, নাগরাকাটা, কালিম্পং, দার্জিলিং, কার্শিয়ং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট উত্তর পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, চাকদা, কল্যাণী, হরিণঘাটা, পানিহাটি, কামারহাটি, বরানগর, দমদম, রাজারহাট নিউ টাউন, বিধাননগর, রাজারহাট গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর, হিঙ্গলগঞ্জ, খণ্ডঘোষ, বর্ধমান দক্ষিণ, রায়না, জামালপুর, মন্তেশ্বর, কালনা, মেমারি, বর্ধমান উত্তর।