বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২
হোম » ফেসবুক থেকে » নারায়ণগঞ্জ সুষ্ঠু ভোট নিয়ে নানা শঙ্কা,
a2znews24.com
নারায়ণগঞ্জ সুষ্ঠু ভোট নিয়ে নানা শঙ্কা,

নারায়ণগঞ্জ সুষ্ঠু ভোট নিয়ে নানা শঙ্কা,

নারায়ণগঞ্জ আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন।এ ভোটকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ।দেশবাসীর নজরও সেদিকে।ভোটের নানা সমীকরণে অনেকটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচন।তবে মূল ফোকাস সরকারদলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে ঘিরেই।জয়ের ব্যাপারে দুজনই আশাবাদী। তবে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে শঙ্কাও।

অপরদিকে তৈমুর বলেছেন, সরকারদলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। সুষ্ঠু ভোট হলে হাতির পাড়ায় এবার নৌকা ডুববে।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জে নিজ নিজ বাসায় যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দুই হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী এসব কথা বলেন। তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার-হাবিবুর রহমান খান ও কাজী জেবেল।আমার জয় রোধে একটি মহল চেষ্টা করবে: ডা. আইভী

প্রশ্ন : প্রচার কেমন চলছে?

উত্তর : সারা দিন প্রচারণা করি। সকাল ও বিকাল মিলিয়ে প্রতিদিন দুটি করে ওয়ার্ডে প্রচারণা করি। জোরেশোরেই প্রচার করছি।

প্রশ্ন : প্রচার চালাতে কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে?

উত্তর : আসলে প্রচারণা চালাতে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে না। কারণ এই শহরের প্রত্যেকটি মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে নারী ভোটার ও বাচ্চাদের সঙ্গে। খুব সহজেই তাদের কাছে যেতে পারছি। তার মানে এই নয় যে, পুরুষ ভোটারদের সঙ্গে আমার দূরত্ব রয়েছে। সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। যার ফলে সাড়া পাচ্ছি ভীষণভাবে। আবার অনেক দিন পর সবার সঙ্গে দেখা পাচ্ছি-সেটাও ভালো লাগছে। মেয়র দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কাজে যেতাম। ওই কাজটি থাকত মূল লক্ষ্য। আর নির্বাচনের সময়ে সবার সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশে যাচ্ছি। সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়। ভালো লাগছে।

প্রশ্ন : নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত কেমন?

উত্তর : আমি বলব, এখন পর্যন্ত ভালো।কিন্তু এই ভালো কতক্ষণ থাকবে তা আমি জানি না। মাঝেমধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি খুব বেশি দেখতে পাচ্ছি। হোন্ডা বাহিনীর মহড়া দেখছি।সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো আছে।১৬ জানুয়ারি ভোটের দিন বা তার পরেও পরিবেশ ভালো থাকে সেই ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ঐতিহ্য হচ্ছে নির্বাচনে টানটান উত্তেজনা থাকে, কিন্তু ভালোভাবে ভোটগ্রহণ হয়। সেই ভালোটাকে প্রাধান্য দিয়ে ভোটগ্রহণ যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভীতিহীন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং নারায়ণগঞ্জবাসী যেন ভালো থাকেন-সেজন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছি।

প্রশ্ন : কিশোর গ্যাং বা হোন্ডা বাহিনীর নেপথ্যে কারা আছে বলে মনে করেন?উত্তর : নেপথ্যে কারা এটা সবাই জানে। নির্বাচনের এ মুহূর্তে এ বিষয়ে বলে কোনো কিছুকে বিতর্কিত করতে চাই না। তবে নেপথ্যে কারা তা শহরবাসী জানেন, প্রশাসন জানে, সাংবাদিকরাও জানেন। যাই হোক, এটা চলছে, হয়তো চলবে। নির্বাচনের সময় এটা বন্ধ করতে হবে। কোনো অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে নির্বাচন যেন বানচাল করতে না পারে, ভোটকেন্দ্র বন্ধ করতে না পারে। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে আমি ইনশাআল্লাহ জয়যুক্ত হব। আমার এই জয়কে রোধ করার জন্য একটি মহল চেষ্টা করবে।

প্রশ্ন : জয় রোধের বাধা কী তৈমুর আলম খন্দকার নাকি অন্য কেউ? উত্তর : এটা পরিষ্কার। তৈমুর কাকা কাদের প্রার্থী তা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে স্পষ্ট-এটা আমি বলছি না। জনগণই বলছেন, মানুষ বলছেন, ভোটাররা বলছেন। ভোটকেন্দ্রে যেন সবাই নির্বিঘ্নে যেতে পারেন সেটা নিয়েই আমি শঙ্কিত। ভোট ঠিকমতো দিতে পারলে আমি জয়ী হব।এটা শতভাগ গ্যারান্টি দিতে পারি।

প্রশ্ন : ভোটের দিন সহিংসতার আশঙ্কা কেন?উত্তর : আমি আশঙ্কা করছি এটা হতে পারে। হবে যে এমন কোনো কথা না।২০১১ ও ২০১৬ সালের নির্বাচনে অনেক কিছুই হয়েছিল।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করেছিল যে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছিল, কোনো অরাজকতা তৈরি হয়নি।এখনও অরাজকতা তৈরি হয়নি।যেহেতু আমি প্রার্থী, যে দলেরই হোক না কেন, প্রার্থী হিসাবে আমি চাইব পরিবেশ যেন সুন্দর-স্বাভাবিক থাকে। তিনি বলেন, আমার এ শঙ্কার নেপথ্য হচ্ছে, তৈমুর আলম যদি শুধু বিএনপির প্রার্থী হতেন তাহলে এমন আশঙ্কা করতাম না।যেহেতু উনার পেছনে আরেকজন যুক্ত হয়েছেন, যিনি ২০১১ সালে আমার সঙ্গে নির্বাচন করে হেরেছিলেন তাই সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে সন্দেহ মনে হচ্ছে।

প্রশ্ন : ২০১১ সালে প্রতিপক্ষ ছিলেন একেএম শামীম ওসমান। আপনি তাকে সন্দেহ করছেন কিনা?উত্তর : আমি কোনো আশঙ্কা করতে চাচ্ছি না। তবে জনগণ মনে করছে।

প্রশ্ন : শামীম ওসমান তো নৌকার পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।উত্তর : উনারতো মাঠে নামার সুযোগ নেই।নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী উনি মাঠে নামতে পারবেন না। আমি ঠিক জানি না উনি কেন কী বলেছেন। নিয়ম অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য মাঠে নামতে পারেন না। উনি কি বলেছেন আমি সঠিকভাবে জানি না।

প্রশ্ন : ট্যাক্স বেড়েছে, সেবা বাড়েনি- তৈমুর আলম খন্দকারের এ অভিযোগের বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?উত্তর : এ অভিযোগ সত্য নয়। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সাখাওয়াত সাহেব বিএনপি প্রার্থী একই অভিযোগ করেছিলেন।এখন একই বক্তব্য দিচ্ছেন তৈমুর কাকা।আসলে পাঁচ বছর পরপর ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট করা হয়।যদি ট্যাক্স বাড়াতাম তাহলে জনগণই অভিযোগ করতেন।উলটো করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত দেড় বছর ট্যাক্সই আদায় করিনি।তাহলে কোথায় ট্যাক্স বাড়ালাম।তবে পানির তিন শতাংশ ফি যুক্ত হয়েছে। আগে ঢাকা ওয়াসা এই টাকা নিত। এখন সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ওয়াসা যুক্ত হয়েছে। আপনি পানি নিচ্ছেন, সেই ফি দিবেন না? তবে প্রশ্ন উঠেছে, যেসব জায়গায় পানির লাইন নেই তারা কেন এ ফি দিবেন।আমি মনে করি, এটা যুক্তিযুক্ত। আমি নির্বাচিত হলে যেসব ওয়ার্ডে পানির লাইন নেই, সেই তিন শতাংশ ট্যাক্স বাদ দিয়ে দেব।

প্রশ্ন : বারবার জয়ে ভূমিকা কার বেশি?উত্তর : ভূমিকা সবসময় জনগণের।তারা আমাকে বারবার ভোট দেন।কারণ আমি ব্যাপকভাবে উন্নয়ন করেছি।উন্নয়ন কার্যক্রম এখন দৃশ্যমান।আমি কখনও চাঁদাবাজি করিনি, সন্ত্রাস করিনি।আমি যতটুকু পেরেছি চাঁদাবাজি,সন্ত্রাস, খুন-খারাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি।জনগণ আমাকে আস্থার সঙ্গে নিয়েছে। আমার কাজের জন্য আমাকে মূল্যায়ন করেছে।তাদের জন্য, এ নারায়ণগঞ্জ শহরের জন্য আমি ক্ষতিকারক কেউ না-সেটা জনগণ মনে করে। আমি পারলে উপকার করি, না পারলে চুপ থাকি।

প্রশ্ন : গত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির কতভাগ বাস্তবায়ন করেছেন?উত্তর : আমি যা বলেছি তার ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন করেছি।আমার কাজ বাকি আছে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ। এ ব্রিজের কাজ এখনও দৃশ্যমান হয়নি। অনেক কাজ এগিয়ে গেছে।এখন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে।ড্রয়িং-ডিজাইন হয়ে গেছে। আশা করছি, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করতে পারবেন। এছাড়াও অনেক কাজ করেছি, অনেক কাজ চলমান।নারায়ণগঞ্জে ১৮ একর জমির ওপর শেখ রাসেল পার্ক করেছি। যতগুলো খাল আছে সেগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে খনন করছি।৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সিদ্ধিরগঞ্জ লেক খনন করেছি। সৌন্দর্যবর্ধন কাজ চলছে।প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণ রাস্তাঘাট নির্মাণ হয়েছে।

আমি বলব, ১০ শতাংশের মতো ড্রেনেজ সিস্টেমের কাজ বাকি আছে; যেগুলো অলিগলিতে রয়েছে।চারটি স্কুল করেছি। চারটি মসজিদ নির্মাণ করেছি।আরও তিনটি মসজিদ নির্মাণের টেন্ডার করেছি।মন্দির, শশ্মান, কবরস্থানের কাজ করেছি।ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করেছি।পুকুর খনন করে বাঁধাই করেছি। জলাবদ্ধতা দূর করার চেষ্টা করেছি।ভারি বর্ষণ হলে আধ ঘণ্টার মধ্যে পানি চলে যায়।শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষিত যাতে না হয়, সেজন্য ইটিপিতে শোধন করে ড্রেনের পানি নদীতে দিতে চাচ্ছি।

প্রশ্ন : নগরীতে আবর্জনা ও যানজটের মতো বড় সমস্যা রয়ে গেছে।উত্তর : আবর্জনার সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। কারণ সিদ্ধিরগঞ্জে ২৩ একর জমি অধিগ্রহণ করেছি।সেখানে একটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করার জন্য চুক্তি হয়েছে। ওই প্ল্যান্টে আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। সেখানেই আবর্জনা চলে যাবে।এছাড়া কদমরসুল এলাকায় ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করেছি। দাতা সংস্থার মাধ্যমে সেখানেও প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা করছি। এসব প্রকল্প হয়ে গেলে আবর্জনার সমস্যা থাকবে না। আর যানজট সিটি করপোরেশনের ব্যাপার নয়। এটার জন্য আলাদা রেগুলেটরি বডি আছে। তবুও অনেক সময় আমাদের দেখতে হয়।

সাধারণ মানুষ মনে করেন এটাও আমাদের দেখভাল করার ব্যাপার।কথা চিন্তা করে ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান করছি।এমআরটি-২ ও ৪ এই দুটি মেট্রোরেল নারায়ণগঞ্জ আসবে।ঢাকা ও গাজীপুরের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হলে নারায়ণগঞ্জে শুরু হবে।এগুলো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এছাড়া শহরে অনেক রিকশা-অটো আছে সত্য।বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ড শহরের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করছি।এর আগেও শহরের বাইরে একটি ট্রাক স্ট্যান্ড করেছি।কিন্তু সেখানে ট্রাক না রেখে শহরে রাস্তার ওপর রেখে দেয়।প্রশাসন একটু সহযোগিতা করলে কাজটা সহজ হয়। অনেক সময় প্রশাসনও পেরে উঠে না। আমাদের সচেতনতার একটু অভাব আছে।

প্রশ্ন : এবার নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হলে কোনো কাজ প্রাধান্য দেবেন? উত্তর : প্রথমে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর কদমরসুল ব্রিজ নির্মাণ কাজে প্রাধান্য দেব।এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ওয়াসার পানি সরবরাহ কাজে অগ্রাধিকার দেব।ওয়াসাই এখন আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।এডিবি ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প দিয়েছে।ওয়াসা পানিতে একটু ময়লা পাওয়া যাচ্ছে।এ নিয়ে অভিযোগ আসছে।এ কাজে সময় দেব।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে কি না?তৈমুর : আমি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। আমি কোনো দলের ব্যানারে দাঁড়াইনি। আমাকে মানুষ দলমতনির্বিশেষে সমর্থন দিচ্ছেন। আপনারা দেখেছেন জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ অনেকেই আমার সঙ্গে ছিলেন। ‘ঘুঘু দেখেছ, ঘুঘুর ফাঁদ দেখনি’-আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার এমন বক্তব্যের পর আমাকে ফাঁদ দেখানো শুরু করেছে। ইতোমধ্যে যারা আমাকে সমর্থন করেছেন, তাদের অনেকের বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কসহ বেশ কয়েক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। নৌকার পক্ষে নির্বাচন করার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে হুমকি দিচ্ছে।আরেকটি আশ্চর্যের বিষয়, যা অতীতে কখনো হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি গিয়েও নৌকার পক্ষে কাজ করতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

সরকারদলীয় প্রার্থীর অবস্থা এতটাই করুণ যে,পুলিশ দিয়ে তার দলের লোকজনকে মাঠে নামাতে হচ্ছে।এমন করলে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। প্রশাসন তো সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে গেছে।এ কারণেই এ সরকারের অধীনে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল নির্বাচনে যাচ্ছে না।তবে গণজোয়ারে সব ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে। বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি না?তৈমুর : আমার দল আমাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ভালো কাজ করেছে।আমি মনে করি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে আমার নির্বাচনি রাস্তাটা প্রশস্ত করে দিয়েছেন। জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তারা যা করেছে, বুঝে-শুনে করেছে। এখন কেউ আমাকে ফোন করে বলতে পারবে না তুমি নির্বাচন থেকে সরে যাও।

লাইন কাটা হয়ে গেছে। তাই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় হাইকমান্ডের প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই।তবে ক্ষোভ ছিল ২০১১ সালে।এখন সেই ক্ষোভটা কেটে গেছে।দল থেকে নির্বাচন না করলেও বিএনপিকে পেটালেও নৌকায় ভোট দেবে না। বরং নৌকা মার্কার ভোট আমাকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।কারণ আমার দল আমাকে নিরপেক্ষ বানিয়ে দিয়েছে।সেজন্য শুকরিয়া আদায় করছি।এর ফলে সব দলের-মতের মানুষের ভোট পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি না, দলের অনেকে তো আপনার সঙ্গে নেই?তৈমুর : অবশ্যই পড়বে। তবে সেটা ইতিবাচক।কারণ, স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় প্রতীকে করায় মানুষ অভ্যস্ত না।এখানে নির্বাচনটা হচ্ছে নাসিকের ব্যর্থতা ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।জনগণ বনাম নৌকার।তাছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন এক নয়।আমার সঙ্গে সবাই আছে। ঢাকার নেতাদের চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত।রাজনীতিতে বাস্তবতা এবং জনগণের চাহিদা বিবেচনা করে রাজনীতির মাঠে থাকতে হবে।তাছাড়া বিএনপি,যবদল, ছাত্রদলসহ দলে যাদের পদ-পদবি আছে এমন সব নেতাই আমার সঙ্গে আছে।ধানের শীষের সমর্থকরা সঙ্গে না থাকলেও আমার গণসংযোগে এত লোক কোথা থেকে আসে। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ।

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?তৈমুর :আমি একটা বিষয় বিশ্বাস করি, পাথরে লেখা নাম মুছে যাবে, হৃদয়ে লেখা নাম, সে নাম রয়ে যাবে। মানুষের হৃদয়ে এখন হাতি লেখা হয়ে গেছে।আমি জনগণের ইচ্ছায় প্রার্থী হয়েছি। জনগণ তাদের মনের মতো প্রার্থী পেয়েছে বলে আজ স্বেচ্ছায় ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ নেমে পড়েছে।আমি গণজোয়ার দেখেছি। এ গণজোয়ার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আইভীর অত্যাচারে সবাই পরিবর্তন চায়। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তো আওয়ামী লীগ করে না।সে তো আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধেও নানা সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অতীতে বলেছেন,আমি উইনেবল প্রার্থী। গোটা বাংলাদেশে এখন নির্বাচন নেই।এ নির্বাচনটা হলো জনগণের সঙ্গে আঠারো বছরের ব্যর্থতার লড়াই।নির্বাচনি প্রচারে যেখানেই যাচ্ছি,সেখানেই উন্নয়নের বেহাল চিত্র আর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দেখছি। বর্তমান মেয়র শুধু কথার ফুলঝুড়ি ছড়াচ্ছেন।

মহানগরীর কোথাও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।এমন কোনো ওয়ার্ড নেই যেখানে গিয়ে আমি ভাঙাচোরা রাস্তা আর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখিনি। এই শুষ্ক মৌসুমেও অনেক রাস্তায় পানি মাড়িয়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে।প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এখন উন্নয়নে আবার সময় চাইছেন।কিন্তু সাধারণ মানুষ এখন আর বোকা নেই।তাছাড়া দেশে তৈমুর আলম খন্দকার একটা ব্র্যান্ড।৫০ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে আমার কোনো খুঁত নেই। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে আমি পরীক্ষিত।তাদের যে কোনো সমস্যায় আমাকে কাছে পেয়েছে।তাই সবকিছু মিলে এবার হাতির জয় নিশ্চিত বলেই আমি মনে করি।

ভোটের পর দল থেকে পদত্যাগ করবেন কি না? দল আবার ফিরিয়ে নেবে কি না?তৈমুর : আমার শরীরটা কেটে টুকরো টুকরো করলে যে আওয়াজটা আসবে,সে আওয়াজটার নাম বিএনপি।স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক,পানি কাটলে দুই টুকরো হবে; কিন্তু তৈমুর আলম খন্দকারের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দুই টুকরো হবে না।আমি রাজপথে গুলি খাওয়া লোক।গরুর মতো পুলিশে পিটিয়েছে।বহুবার জেল খেটেছি এই দলের জন্য।আমি নেতাকর্মীদের কাছে পরীক্ষিত ব্যক্তি।তাই দল থেকে পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না।দল পুনরায় ফিরিয়ে নিল কি না, সেটা নিয়ে ভাবছি না। তাছাড়া রাজনীতি করতে পদ লাগে না।

নির্বাচিত হলে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন?তৈমুর : আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সিটি করপোরেশনকে জনমুখী করা।এর আগে আমি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি।সেগুলোকেও আমি জনমুখী করে তুলতে সক্ষম হয়েছি।আমি হব জনগণের এবং জনগণ হবে আমার। যেখানে যে সমস্যা আছে,প্রশাসন-আমলাদের ওপর নির্ভর না করে জনগণের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আগের মেয়র হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িয়েছে।সিটি করপোরেশন কন্ট্রাক্টরদের সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে।

কন্ট্রাক্টররা সিটি করপোরেশন পরিচালনা করছে।নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনকে সিন্ডিকেটমুক্ত করা হবে।রাস্তাঘাট,নর্দমা,পয়নিষ্কাসনসহ জনগণের চলাচল উপযোগী করার দিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।আইভী কোনো সেবামূলক কাজ করেনি।নির্বাচিত হলে জনগণের সেবাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।আইভী সম্পর্কে কিছু বলেন? তৈমুর : আমি সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমানভাবে মূল্যায়ন করি।কাউকে ছোট করে দেখি না।

আরো পড়ুন

অজুর দোয়ায় জান্নাতের ৮টি দরজা খোলে,

অজুর দোয়ায় জান্নাতের ৮টি দরজা খোলে,

অজুর শেষে এই দোয়া পাঠকারীর জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়। যে দরজা দিয়ে …