জুলাইয়ের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করতে চায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ লক্ষ্যে দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কমিশন ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ শুরু করে।
১৪টি বৈঠকে আটটি বিষয়ে তারা একমত হয়েছে। একাধিকবার আলোচনা হলেও সাতটি বিষয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি তারা। বাকি চারটি বিষয়ে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি। চলতি সপ্তাহে পাঁচদিনই কমিশন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে বলে জানা গেছে।
ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার কমিশন প্রধান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা কমিশনের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। প্রধান উপদেষ্টা তাদের সার্বিক দিকনির্দেশনা দেন।
ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপে সংস্কার প্রক্রিয়ার কোন কোন আলোচনা কোথায় কোথায় আটকাচ্ছে, তা প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা তাদের জানান, রাষ্ট্রের কাঠামোগত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সংস্কার এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ড. ইউনূস গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সংস্কার হিসেবে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন প্রক্রিয়া সংবিধানে উল্লেখ থাকা এবং সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জানা গেছে, পাঁচটি সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে ঐকমত্য কমিশন। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ১৯ সুপারিশ ছাড়া বাকিগুলো নিয়ে এক ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েই আছে। এ ১৪৭টি সুপারিশের মধ্যে কিছু বাদে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলগুলো একমত হয়েছে।
কমিশনের দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আমার দেশকে জানিয়েছেন, যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হচ্ছে তা সুপারিশ আকারে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আর যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য থাকছে, সেটা কেন হচ্ছে না তা উল্লেখ করে সে সম্পর্কিত প্রতিবেদনের খসড়াও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ-জাতীয় সনদ যাতে প্রকাশ করা যায়, তার জন্য এ কাজগুলো এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
ঐকমত্য কমিশন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে চায়, সে অনুযায়ী কমিশন সংশ্লিষ্টদের কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বলে কমিশন দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
গত ২ জুন প্রধান উপদেষ্টা দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরদিন থেকেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে। ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে এ সংলাপ শুরু হয়। জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১৪টি বৈঠকে দলগুলোর সঙ্গে ১৫টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে কমিশন। এর মধ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগবিষয়ক আটটি বিষয়ের সঙ্গে একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। অন্যদিকে সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি, সংবিধানের উচ্চকক্ষ ও সংরক্ষিত আসনসহ সাতটি বিষয়ে একমত হতে পারেনি দলগুলো।
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ আমার দেশকে বলেন, কমিশনের মেয়াদ ১৫ আগস্ট পর্যন্ত হলেও আমরা এ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে চাই। দলগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পেলে এটি সম্ভব।

