আন্তর্জাতিকলিড নিউজ

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ২০০

ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘন্টায় গাজায় ২০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার সকালে উত্তর গাজার জাবালিয়াতে বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল।

দেশটির দাবি, এলাকাটিতে তারা অভিযানিক নিয়ন্ত্রণ প্রায় সম্পূর্ণ করেছে। তারা হামাস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জাবালিয়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমান ও ট্যাংক দিয়ে ইসরায়েলের বোমা ও গোলাবর্ষণ  অব্যাহত রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ৩৮৪ জন। মোট আহতের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৩৬জন। নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০,৪২৪ জনে।

গাজা কর্তৃপক্ষ জানায়, ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাংবাদিকদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ জনে।

গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১,১৪০।

মধ্য গাজার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ইসরায়েলের সামরিক হামলার ফলে গাজায় নিহত প্রায় ৭০% নারী ও শিশু, একই সময়ে আরও ৫৩,৩২০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

ডাব্লিউএইচও প্রধান বলেন, “ক্রমাগত লড়াই খাদ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহে বাধা তৈরি করেছে। এতে গাজায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিচ্ছে।”

জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) সতর্ক করেছে, গাজায় পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ১০,০০০ শিশুর জীবন-হুমকিপূর্ণ অপুষ্টির সম্মুখীন।

আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সব জিম্মি মুক্তি ও হামাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।”

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “ইসরাইল যেভাবে গাজায় যুদ্ধ চালাচ্ছে তা মানবিক সাহায্য বিতরণে বিশাল বাধা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন।”

এদিকে মানবিক বিপর্যয়ে থাকা গাজা উপত্যকায় আরও সহায়তা পাঠানোর অনুমতি চেয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সংস্থাটি গাজায় দুর্ভিক্ষের আসন্ন ঝুঁকি ও রোগের বিস্তারের কথাও জানিয়েছে।

দাতা সংস্থা যে সহায়তা গাজায় পাঠাচ্ছে তাকে অপর্যাপ্ত বলে অভিহিত করেছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

এরমধ্যে জাতিসংঘ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনলেও যুক্তরাষ্ট্র বিরোধিতায় সেটি পাস হয়নি।

সহায়তা পাঠানোর অনুমতি প্রস্তাব পাস হওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস।

হামলা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্ত ছিল মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবির ও দক্ষিণে খান ইউনিসে।

সাঁজোয়া যান ও বুলডোজার দিয়ে অধিকৃত পশ্চিম তীর জুড়ে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সেনারা। ওই সময় বাড়ি তল্লাশি করে জেনিনে ফিলিস্তিনি যুবকদের নির্যাতন ও নিপীড়ন চালায় তারা।

গাজা ছাড়াও ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে  ইসরায়েলের বিমান বাহিনী।

তাদের জবাব দিতে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা উত্তর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।