মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ক্ষুদ্রঋণে অর্থায়ন বাড়ল, তিন ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা

মহামারি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য গঠিত তিন হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের আওতায় এখন থেকে একটি ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তিনটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিতরণ করতে পারবে। এত দিন একটি ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শুধু একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিতরণ করতে পারত। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

গত ২০ এপ্রিল নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার পুনরর্থায়ন স্কিম গঠন করে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছিল, এ তহবিলের আওতায় কোনো একটি ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শুধু একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিতরণ করতে পারবে। নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ তহবিলের আওতায় কোনো ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠান অনধিক তিনটি ব্যাংক থেকে অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণকারী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সীমার মধ্যে ঋণগ্রহণ নিশ্চিতকল্পে ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রথম এবং ক্ষেত্রমতে দ্বিতীয় ব্যাংকের কাছ থেকে গৃহীত ঋণ তথ্যসংবলিত একটি ঘোষণাপত্র সর্বশেষ অর্থায়নকারী ব্যাংকের কাছে দাখিল করতে হবে।

জানা গেছে, তিন হাজার কোটি টাকার এই পুনরর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফআই) কেবল তাদের সমিতিভুক্ত সদস্যদেরই ঋণ দিতে পারছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। গ্রাহকপর্যায়ে এই ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। এর বাইরে কোনো ধরনের চার্জ বা ফি নেওয়া যাচ্ছে না। এই স্কিমের মেয়াদ হবে তিন বছর। বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এই স্কিমের আওতায় অর্থায়নকারী ব্যাংক হিসেবে পুনরর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নে আগ্রহী তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করতে হচ্ছে। তফসিলি ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে তাদের অনুকূলে অর্থায়ন করবে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) থেকে সনদ পাওয়া ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ বিতরণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নীতিমালার পাশাপাশি গ্রাহকের বিগত এক বছরের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ঋণ বিতরণ করতে হবে। কেবল ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সমিতিভুক্ত কোনো সদস্যকেই এই ঋণ দেওয়া যাবে। একক গ্রাহকের ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ৭৫ হাজার টাকা। আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত গ্রুপভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট গ্রুপের অনুকূলে ঋণের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এককভাবে ঋণের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা। আর যৌথ প্রকল্পের আওতায় গ্রুপভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাঁচ সদস্যের গ্রুপের জন্য ঋণের পরিমাণ হবে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। গ্রুপের সদস্যসংখ্যা বেশি হলে ঋণের পরিমাণ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।

সুদের হার : বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকের অনুকূলে দেওয়া পুনরর্থায়নের বিপরীতে সুদের হার হবে বার্ষিক ১ শতাংশ। অর্থায়নকারী ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেওয়া অর্থায়নের বিপরীতে সুদহার হবে বার্ষিক ৩.৫ শতাংশ। আর গ্রাহকপর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। এর বাইরে কোনো ধরনের চার্জ বা ফি নেওয়া যাবে না।

আরো পড়ুন

বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো যাবে

বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো যাবে

বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর  সুযোগ রেখে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল-২০২০’ …