অপরাধসর্বশেষ সংবাদসারা বাংলা

কোরআনের হাফেজকে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা

কোরআনের হাফেজকে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা

মো. অলি উল্লাহ স্বাধীন (১৭) নামে এক কোরআনের হাফেজকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে হত্যা করে লাশ মাটিতে পুঁতে রেখেছে অপহরণকারী। এই হত্যাকাণ্ডের ২৫ দিন পর মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে স্বাধীনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে লামা থানা পুলিশ।

এর আগে স্বাধীনের দুই অপহরণকারী ফয়েজ আহমদ (৩৮) ও মো. আরিফুল ইসলামকে (১৭) গ্রেফতার করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের শিংঝিরিতে ঘটেছে। লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হাফেজ মো. অলি উল্লাহ স্বাধীন কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিষুপুর গ্রামের মো. মোবারক হোসেনের ছেলে। অপহরণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ফয়েজ আহমদ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার খারাতাইয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। একই জেলার দেবিদ্বার থানার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিষুপুর গ্রামের মৃত মো. আব্দুল গণি খাঁর ছেলে এবং মো. আরিফুল ইসলাম।

স্বাধীনের বড় ভাই রিয়াজ উদ্দিন সোহেল জানান, গত ২২ মার্চ বেড়ানোর কথা বলে ছোট ভাই হাফেজ স্বাধীন ফুফাতো ভাই মো. আরিফুল ইসলামের সাথে বাড়ি থেকে বের হয়। এর দু’দিন পরই ছোট ভাইয়ের মুক্তির জন্য এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বাড়িতে কল দেয় অপহরণকারীরা। এই ঘটনায় ২৪ মার্চ কুমিল্লার বুড়িচং থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজ ওই ডায়েরির সূত্র ধরে মোবাইল ফোন ট্রেকিং করে মঙ্গলবার দুপুরে লামার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বেত ঝিরির ইউনুচ মোল্লার বাড়ি থেকে ফয়েজ আহমদ ও আরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারীরা অলি উল্লাহ স্বাধীনকে হত্যা করে লাশ মাটিতে পুঁতে ফেলার কথা স্বীকার করে।

পরে আটক দুই আসামী ও মৃত অলি উল্লাহ স্বাধীনের দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাত ১২টার দিকে লাশ উদ্ধারে অভিযানে বের হয় লামা থানা পুলিশ। আটকদের দেখানো মতে রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের শিংঝিরি এলাকায় পাহাড়ের মধ্যে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখা গর্ত থেকে হাফেজ স্বাধীন এর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ মাহমুদ বলেন, হাফেজ মো. অলি উল্লাহ স্বাধীনের লাশটি উদ্ধারের পর তার বড় দুই ভাই রিয়াজ উদ্দিন সোহেল ও মো. জিলানী বাবু সনাক্ত করেছেন। ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।