জাতীয়সর্বশেষ সংবাদসারা বাংলা

কোন উপায় না পেয়ে মোটরসাইকেলে বসে পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে করোনা আক্রান্ত মায়ের জীবন বাচাতে হাসপাতালে নিয়ে গেল ছেলে

কোন উপায় না পেয়ে মোটরসাইকেলে বসে পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে করোনা আক্রান্ত মায়ের জীবন বাচাতে হাসপাতালে নিয়ে গেল ছেলে

সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির জেলার নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রেহেনা বেগম গত বুধবার তাঁর করোনা শনাক্ত হলে নলছিটির সূর্যপাশা তার নিজ বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সেই স্কুল শিক্ষিকা রেহেনা বেগম (৫৮) জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তিনি নলছিটি পৌরসভার সূর্যপাশা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল হাকিম মোল্লার স্ত্রী। ১৭/০৪/২০২১ইং তারিখ শনিবার দুপুরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে লকডাউনের মধ্যেই মায়ের জীবন বাঁচাতে কিভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। তখন সেই মুহূর্তে একটা উপায় খুঁজে বের করলেন তার ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু। মোটরসাইকেলে বসে নিজের পিঠের সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার বাঁধলেন । এরপর মাকে বসালেন মটরসাইকেলের পিছনে। সিলিন্ডার থেকে মায়ের মুখে অক্সিজেন নেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। এরপর মোটরসাইকেল চালিয়ে বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান । এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে মহাসড়কে থাকা চেকপোস্ট থেকে সেই করোনা রোগী বহন করা মোটরসাইকেলটিকে দ্রুত যেতে দিয়েছে পুলিশ। আর পেছনে তাকে ধরে যে নারী বসে আছেন তার মুখে অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে ওই নারী যথারীতি অক্সিজেন গ্রহণ করছেন। এভাবেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ অবস্থা দেখে ওই মোটরসাইকেল চালককে কিছু আর বলার ছিল না ট্রফিক পুলিশের। পরে স্কুল শিক্ষিকা রেহেনা বেগমকে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রেহেনা বেগমের চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান জানান, বর্তমানে রেহেনা বেগমের অবস্থা ভালো। তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তার শ্বাসকষ্ট এখনো আছে। তাকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে হাইফ্লোর মেশিনের সাহায্য নেওয়া হবে।