শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২
হোম » নির্বাচিত কলাম » কৃষিতে লগ্নি নেই,তাই দিনে দিনে অকুশলতার পাহাড় জমেছে,
a2znews24.com
কৃষিতে লগ্নি নেই,তাই দিনে দিনে অকুশলতার পাহাড় জমেছে,

কৃষিতে লগ্নি নেই,তাই দিনে দিনে অকুশলতার পাহাড় জমেছে,

কেন্দ্রীয় সরকার যে শেষ অবধি তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হল, তাকে ভারতীয় কৃষকদের এক বিপুল জয় হিসাবে না দেখার বিন্দুমাত্র কারণ নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বহু চেষ্টা করেও কৃষকদের বোঝাতে পারেননি যে,ওই আইন তিনটি কৃষকদের হিতার্থেই তৈরি করা হয়েছিল, আইন প্রত্যাহার ঘটনাটিকে কেন্দ্রীয় শাসকরা নিছক একটি পরাজয় হিসাবে দেখবেন,না কি এর থেকে শিক্ষা নেবেন যে, কোনও আইন বা নীতি প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন,সব পক্ষের স্বার্থের কথা মাথায় রাখা প্রয়োজন সেটা কোটি টাকার প্রশ্ন।

ভারতে ‘নাগরিক কেন্দ্রিক’ উন্নয়নের গুরুত্ব নিয়ে দশকের পর দশক আলোচনা হয়েছে।এই বার কি নীতিনির্ধারকরা আইন প্রণয়নের সময় এই ভাবনাকাঠামোকে নিজেদের চিন্তার কেন্দ্রে রাখবেন?নাগরিক কেন্দ্রিক’ উন্নয়ন ভাবনার অভাবে দেশের যে ক্ষেত্রটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে কৃষি।ভারতে প্রায় সব ক’টি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের জন্যই সরকার একাধিক বার বিস্তারিত নীতি প্রণয়ন করেছেব্যতিক্রম শুধু কৃষি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার এক বছরের মধ্যেই, ১৯৪৮ সালে,প্রথম শিল্পনীতি প্রণীত হয়েছিল।সেটির পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত রূপ প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।অথচ, কৃষি নীতি বলতে হাতে রয়েছে শুধু একুশ শতকের গোড়ায় এনডিএ সরকারের তৈরি করা খসড়া নীতি।কেউ যদি একে ভারতীয় অর্থব্যবস্থায় কৃষির ক্রমহ্রাসমান গুরুত্বের প্রতিফলন হিসাবে দেখতে চান,সেটা ঠিক হবে না।আমেরিকায় বা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে কৃষির অনুপাত গত কয়েক দশকে অতি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। আমেরিকার জিডিপি’র মাত্র এক শতাংশ আসে কৃষি থেকে; ইউরোপীয় ইউনিয়নে চার শতাংশ।

কিন্তু, আমেরিকায় বা ইউরোপের দেশগুলিতে নিয়মিত কৃষি নীতি প্রণীত হয়।

আমেরিকায় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর কৃষি নীতি তৈরি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি প্রতি দশকে এক বার অভিন্ন কৃষি নীতি গ্রহণ করে। কিন্তু ভারতে, যেখানে এখনও জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল, সেখানে কোনও কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কৃষি নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করে উঠতে পারেনি।সরকারকে কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে কৃষকরা একটা লড়াই জিতেছেন ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে তাঁরা এখনও হারছেন। গত কয়েক দশকে কৃষিক্ষেত্র যে অবহেলার শিকার হয়েছে, তা দূর করার জন্য যদি এখনই কেন্দ্রীয় সরকার একটি সার্বিক কৃষি নীতি প্রণয়নের জন্য রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু না করে, তা হলে বিপদ কাটার নয়।

কৃষিক্ষেত্র যে দীর্ঘমেয়াদি অবহেলার শিকার হয়েছে, তাতে ক্ষেত্রটি ক্রমেই অকুশলী হয়ে পড়েছে, যে বোঝা বহন করতে হচ্ছে কৃষকদের। এই কথাটা ভুলেও কেউ স্বীকার করেন না যে, কৃষিক্ষেত্রে জমে ওঠা অকুশলতার পাহাড়ের জন্য ভর্তুকির মূল্য গুনে দিতে হচ্ছে। যত দিন না যথাযথ নীতির মাধ্যমে এই অকুশলতা দূর করা যাচ্ছে, তত দিন অবধি জীবন ও জীবিকার যুদ্ধে কৃষকের জয় নিশ্চিত হবে না।এমনিতেই বিনিয়োগ কম, তার উপর যদি সেই বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমহ্রাসমান হয়, তা হলে ক্ষেত্রটিতে বৃদ্ধির হার যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা অনুমান করা যায়। অন্য একটি তথ্য থেকেও এই ক্ষতির আঁচ পাওয়া যেতে পারে।

বিশ্বের সব প্রধান খাদ্যশস্যের ক্ষেত্রেই ভারত সর্বাগ্রগণ্য উৎপাদক দেশগুলির অন্যতম। কিন্তু, রাষ্ট্রপুঞ্জের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজ়েশনের পরিসংখ্যান বলছে যে, সব ক্ষেত্রেই উৎপাদনশীলতার বিচারে ভারত প্রথম সারির দেশগুলির চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। যেমন, ২০১৯ সালে ভারতে এক হেক্টর জমিতে ২.৭ টন ধান উৎপন্ন হয়েছিল, যেখানে অস্ট্রেলিয়ায় উৎপন্ন হয়েছিল ৮.৮ টন ধান। গমের ক্ষেত্রেও ছবিটি একই রকম— ভারতে এক হেক্টর জমিতে উৎপন্ন হয়েছিল ৩.৫ টন গম, আয়ার্ল্যান্ডে হয়েছিল ৯.৪ টন।

অর্থনীতি বিভাগ নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়.

আরো পড়ুন

নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানার আগুন,

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট।শুক্রবার …