শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ইরাকে আরও বিপজ্জনক হয়ে ফিরছে আইএস

সর্বশেষ ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর দুই বছর পরে ইরাকে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। কুর্দি এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, আইএসের হামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তারা আবার শক্তিশালী হচ্ছে। এখন আরও বেশি দক্ষ তারা। আল কায়দার চেয়ে তারা এখন আরও বেশি ভয়ংকর। কর্মকর্তারা আরও বলছেন, আইএসের কাছে রয়েছে উন্নত টেকনিক, কৌশল। রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অর্থ। তারা গাড়ি, অস্ত্র, খাদ্য সরবরাহ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে সক্ষম। কৌশলগতভাবে তারা অধিক বেশি দক্ষ। তাদেরকে মুছে দেয়া খুব কঠিন।

লাহুর তালাবানি নামে কুর্দিবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এসব তথ্য দিয়েছে বিবিসি। সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের শাসনকালে পালিয়ে গিয়ে ব্রিটেনে আশ্রয় নেয় কুর্দি এই কর্মকর্তার পরিবার।

২০১৪ সালের জুনে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল দখলের মধ্য দিয়ে আইএসের উত্থান ঘটে। ইরাক ও পশ্চিমা সামরিক জোটের তিন বছরের চেষ্টায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ইরাকে আইএসের পতন ঘটে।

এর দুই বছর পর চলতি বছরের মার্চে সিরিয়ার বাঘুসে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এর পাঁচ বছরের ‘খিলাফতের’ আপাত অবসান হয়। এটি ছিল আইএসের শেষ ঘাঁটি। আইএস একসময় প্রায় ৮৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত, যেখানে বাস করত প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। তেল পাচার ছাড়াও স্থানীয় জনগণের কাছে চাঁদা, ডাকাতি আর অপহরণ থেকে অর্থ আয় করত তারা। এরপর অক্টোবরে আইএস নেতা আবুবকর আল বাগদাদির হত্যার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ঘাঁটি হারালেও আইএসের নিঃশেষ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় পতনের পর আইএস মূলত সারা বিশ্বেই বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়।

আইএসের সৃষ্টি ও এর পরিচালনা নিয়েও শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তেহরানে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তানবিষয়ক আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপের দ্বিতীয় অধিবেশনে অংশ নিয়ে রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব নিকোলাই পেট্রুশেভ বলেন, আফগানিস্তানে আইএস সন্ত্রাসীদের গমনের পেছনে মার্কিনি হাত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

দেশটিকে অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ করতে যুক্তরাষ্ট্রই আইএস’র সন্ত্রাসীদের পাঠিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ওই অধিবেশনে রাশিয়া, চীন, ভারত, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সচিবরা যোগ দেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের ফেব্রুয়ারিতে দেয়া এক রিপোর্টে ইরাকে গোপনে জিহাদিরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে- এমন তথ্য আসে। তাতে বলা হয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংগঠিত হচ্ছে আইএস জঙ্গিরা।

মরুভূমি ও পার্বত্য এলাকাগুলোয় তারা কাজ করে যেখানে যাতায়াত ও হামলার পরিকল্পনা তাদের জন্য সহজ। আইএস নেটওয়ার্ক সিরিয়াতেও ইরাকের মতো করেই দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন

ভারতে এসেই প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, স্বাক্ষর আজ

প্রথমবারের মতো ভারত সফরে এসেই ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার কোটি …