শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২
হোম » ইসলাম » আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল,
আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল,

আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল,

গত পর্বের আলোচনায় আমরা শিশুদের সামাজিক হওয়ার ক্ষেত্রে স্কুল-পূর্ব শিশু-শিক্ষা কেন্দ্রের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেছিলাম।

স্কুল-পূর্ব আদর্শ শিশু-শিক্ষা কেন্দ্রের জরুরি কয়েকটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও আমরা কথা বলেছিলাম। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে দক্ষ ও আন্তরিক শিক্ষকদের উপস্থিতির ওপর। এইসব প্রতিষ্ঠানের একজন দক্ষ ও একনিষ্ঠ শিক্ষক শিশুদের সৃষ্টিশীলতা, আবেগ-অনুভূতির পরিশীলন, শারীরিক বিকাশ ও আচার-আচরণের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফুল বাগানের পরিচর্যা ও বিকাশের জন্য যেমন দক্ষ মালী থাকা জরুরি তেমনি জীবন-বাগানের কচি ফুল বা ফুলের কুড়িগুলোর যত্ন নেয়ার জন্যও দক্ষ ও আন্তরিক শিক্ষকের উপস্থিতি অপরিহার্য।

শিশুদের নানা প্রতিভা শনাক্ত করা ও তাদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ এবং প্রাইমারি স্কুল-পূর্ব শিশু-শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ শিশুদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এইসব চাহিদা মেটানোর জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন যিনি তিনি হলেন একজন দক্ষ বা আদর্শ শিক্ষক। এই শিক্ষকদের স্নেহের ছায়ায় বিকাশ ঘটে শিশুদের নানা প্রতিভার এবং সমাজ উপহার পায় সৃষ্টিশীল নতুন কুড়িদের।

শিক্ষকের অনন্য মর্যাদা তুলে ধরার জন্য এটাই যথেষ্ট যে বিশ্বনবী (সা) নিজেকে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষক বলে মনে করতেন এবং এ জন্য গৌরব অনুভব করতেন। শিক্ষকদের গুরুত্ব দিতেন বলেই তিনি তাঁর দোয়ায় বলতেন : হে আল্লাহ! আপনি শিক্ষকদের ক্ষমা করুন ! তাঁদেরকে দীর্ঘ জীবন দান করুন! এবং তাঁদের আয়-উপার্জন ও কাজে বরকত দান করুন।

আজ আমরা একজন উপযুক্ত শিক্ষক বা প্রশিক্ষকের নানা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করব। ইসলামের দৃষ্টিতে একজন ভালো শিক্ষকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হল তিনি ছাত্রদেরকে ধর্ম ও নৈতিকতার জ্ঞান দান করবেন। ছাত্রদেরকে নানা জ্ঞান দানের পাশাপাশি তাদের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগিয়ে তোলাও শিক্ষকের দায়িত্ব। শহীদ-সম্রাট হযরত ইমাম হুসাইন (আ) বলেছেন: যে কেউ কোনো মানুষকে বিচ্যুতি বা গোমরাহি থেকে মুক্ত করে তাকে সত্য ও বাস্তবতাকে চেনায় এবং সেও তাতে সাড়া দিয়ে যখন সত্য ও বাস্তবতাকে গ্রহণ করে তখন সুপথ প্রদর্শনকারী ওই ব্যক্তি একজন দাসকে মুক্ত করার সমান সাওয়াব পাবে।

শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চেতনা বিকাশের অন্যতম কার্যকর পন্থা হল তাদেরকে শিক্ষণীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চেতনায় ভরপুর নানা কাহিনী শোনানো। এইসব কাহিনী থেকে মানুষ সাফল্য ও ব্যর্থতার রহস্যগুলো জানতে পারে। আত্মউন্নয়ন বা উন্নতির নানা কারণ জানা যায় এইসব কাহিনী শোনার মাধ্যমে। একই কারণে পবিত্র কুরআনে তুলে ধরা হয়েছে  অতীতের জাতিগুলোর শিক্ষণীয় ইতিহাস। পবিত্র কুরআন জাতিগুলোর নানা পরিণতির ওইসব কাহিনী নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করতে মানুষকে আহ্বান জানায়। জাতিগুলোর সাফল্য ও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মূল কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ওইসব ঘটনা বর্ণনার শেষাংশে। ফলে ভালো ও মন্দ কাজের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক হন পবিত্র কুরআনের পাঠক বা শ্রোতারা। তাই একজন আদর্শ শিক্ষককেও পবিত্র কুরআনের এই পদ্ধতি অনুসরণ করে শিশু-কিশোরদেরকে পছন্দনীয় আচরণ ও উন্নত চরিত্রের দিকে আকৃষ্ট করতে হবে।

আরো পড়ুন

নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানার আগুন,

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট।শুক্রবার …