শনিবার, ১২ জুন ২০২১
হোম » ইসলাম » ‘আঘাত’ সম্পর্কে মহানবীর (সা) মন্তব্য

‘আঘাত’ সম্পর্কে মহানবীর (সা) মন্তব্য

১৭ শাওয়াল ঐতিহাসিক আহজাব বা খন্দক যুদ্ধ-জয়ের বার্ষিকী। ১৪৩৭ চন্দ্র-বছর আগে পঞ্চম হিজরির এই দিনে ঐতিহাসিক এ যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিল মুসলমানরা। এ যুদ্ধেরও প্রধান বীর ছিলেন মুমিনদের নেতা তথা আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.)।

আলী (আ.) এ যুদ্ধে কাফির শিবিরের প্রধান দুর্ধর্ষ যোদ্ধা আমর ইবনে আবদে উদকে বিশ্বনবী (সা.)’র উপহার দেয়া অমর তরবারি জুলফিকারের অব্যর্থ আঘাতে জাহান্নামে পাঠিয়েছিলেন। মূলত হযরত আলীর এই আঘাতের কারণেই এই মহাযুদ্ধে বিজয়ী হয় মুসলমানরা। এ মহাযুদ্ধ জয় ইসলামের জন্য ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর আগে আর কোনো যুদ্ধে আরব বিশ্বের সবগুলো কাফির ও ইহুদি গোত্র ইসলামের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধে নামেনি। বিশ্বনবী (সা.)-কে হত্যা করাসহ মুসলমানদের নাম-নিশানা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করা ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই মহাযুদ্ধ আয়োজনের লক্ষ্য।

ইসলাম-বিদ্বেষী কয়েকজন ইহুদি ছিল এই যুদ্ধের মূল সংগঠক ও উদ্যোক্তা। মক্কার কাফির নেতাদের তারাই উত্তেজিত করে ও সবগুলো ইহুদি গোত্রের সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তারা মূর্তিপূজারি কাফির গোত্রগুলোকে এ যুদ্ধে নামায়। দশ হাজার সেনার শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে কাফিররা মদীনা অবরোধ করে। বিশ্বনবী(সা.)’র নেতৃত্বে তিন হাজার মুসলমান প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত হন। বিখ্যাত সাহাবি  হযরত সালমান ফার্সি (আ.)’র পরামর্শে মদীনার অরক্ষিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে হামলা থেকে রক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ (প্রায় ৫ মিটার গভীর ও ৫ মিটার চওড়া) এক গভীর পরিখা বা গর্ত খনন করা হয় যাতে শত্রুর দক্ষ অশ্বারোহী সেনাও এই পরিখা অতিক্রম করতে না পারে। এই জন্য এই যুদ্ধকে খন্দকেরও যুদ্ধও বলা হয়।

পরিখা খনন ও তার আশপাশে মুসলিম সেনাদের কড়া প্রহরার ফলে বহু দিন ধরে অবরোধ চালিয়ে যেতে হয়েছিল সম্মিলিত কাফির বাহিনীকে। তীব্র শীত শুরু হওয়ায় এবং খাদ্য-দ্রব্য ও রসদ ফুরিয়ে আসায় পরিস্থিতি ক্রমেই কাফিরদের জন্য হতাশাজনক হয়ে পড়ছিল। তাই কাফির নেতারা যে কোনোভাবে পরিখা অতিক্রম করে মুসলমানদের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আর মদীনার ভেতর থেকে ইহুদি গোত্র বনি কুরাইযা কাফিরদের জন্য পথ খুলে দেবে ও শহরের ভেতরে আকস্মিক লুটপাটের মাধ্যমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তারাও আগ্রাসন শুরু করবে বলে গোপনে ষড়যন্ত্র পাকানো হয়।

আরো পড়ুন

যে দোয়ায় মাফ হবে ৮০ বছরের গুনাহ

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন; আল্লাহ তাআলা বলেন, বান্দা যখন …