রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
হোম » বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি » আগে লেখাটা পড়ুন পরে বিপ ইনস্টল করুন
আগে লেখাটা পড়ুন পরে বিপ ইনস্টল করুন

আগে লেখাটা পড়ুন পরে বিপ ইনস্টল করুন

হোয়াটসঅ্যাপ নিজেদের পলিসিগত পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বাংলাদেশ বিপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা তরতর করে বাড়তে থাকে। তুরস্কের নামকরা মোবাইল ফোন অপারেটর কম্পানি টার্কসেল ২০১৩ সালে বিপ অ্যাপ বাজারে ছাড়ে। বিশ্বের ১৯২টি দেশে এই অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীদের বেশির ভাগই ইউরোপবাসী। সেই তালিকায় এখন যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। সম্প্রতি দেশে ডাউনলোডের দিক থেকে এটি শীর্ষে অবস্থান করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও এই অ্যাপের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে এবং মুসলিম দেশের তৈরি বিশ্বস্ত অ্যাপ হিসেবে ব্যাপক প্রচারণা চলছে।

ফিচারগুলো
গত কয়েক দিনে বিপ, সিগন্যাল ও টেলিগ্রামে কয়েক কোটি নতুন ব্যবহারকারী যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ইনস্টল করেছেন বিপ। এতে হোয়াটসঅ্যাপকে সরিয়ে বাংলাদেশের এক নম্বর মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন এখন বিপ। অন্যান্য অ্যাপের মতো বিপ অ্যাপের মাধ্যমে অডিও বা ভিডিও কল, মেসেজ, ছবি এবং ভিডিও আদান-প্রদান করা যায়। অ্যাপটিতে সিক্রেট চ্যাট করার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোনো ব্যবহারকারী যদি নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে দিতে চান, তাহলে সে অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করে দিলে তা সময়মতো মুছেও যাবে। আইওএস এবং অ্যানড্রয়েড—এই দুই সংস্করণেও এই অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া উইন্ডোজ এবং ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের জন্য অ্যাপটির আলাদা সংস্করণও আছে। পাশাপাশি ওয়েব সংস্করণও রেখেছে বিপ। অ্যাপটিতে আরো রয়েছে ট্রান্সলেটর এবং পেমেন্ট করার সুবিধাও।

কতটুকু নিরাপদ?
বিপ অ্যাপের তরফ থেকে গোপনীয়তা রক্ষার বিশেষ এক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এটি এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড অর্থাৎ ভয়েস কল এবং মেসেজ আদান-প্রদান সম্পূর্ণ গোপন ও নিরাপদ থাকবে। আসলেই কি তাই? বিষয়টি আসলে ঠিক উল্টো। বিপ অ্যাপের প্রাইভেসি পলিসি সেকশনে গেলে শুরু থেকেই দেখা যায় যে তারা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে লিখে রেখেছে—বিপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করে। অ্যাপটিতে নিবন্ধন করার সময় ব্যবহারকারী কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য ও প্রফাইল সাজানোর সময় দেওয়া তথ্য এবং অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো কেনাকাটা করার তথ্য থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের তথ্যই তারা সংরক্ষণ করে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড, সিম অপারেটর, ইউজার বিহেভিয়র, স্ট্যাটাস, প্রফাইল পিকচার, ফোনে সেভ থাকা সব কন্টাক্ট নম্বর, ব্লক করা নম্বর, ইউজার লোকেশন, ফোনের মডেল, অপারেটিং সিস্টেম ইত্যাদি ডাটা এই অ্যাপ সংরক্ষণ করে। যে তথ্য প্রদানের ভয়ে ব্যবহারকারীরা এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে চলে যাচ্ছেন এমন সব তথ্যই বিপ নিয়ে রাখে। ব্যবহারকারী যদি ডাটা ব্যাকআপ অপশনটি চালু রাখেন সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সব ডাটা যে শুধু সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে তা নয়, পলিসি অনুযায়ী তুরস্কে অবস্থিত নিজেদের সার্ভারে দুই বছর পর্যন্ত সেসব ডাটা সংরক্ষণের অধিকার রাখে বিপ। আরো ভয়ের কথা, এই প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের তথ্য যেকোনো থার্ড পার্টি কম্পানির সঙ্গে শেয়ার করার অধিকারও রাখে।

এতো গেল তাদের বলে-কয়ে তথ্য নিয়ে রাখার কথা। এবার আসি প্রযুক্তিগত বিষয়ে। যেকোনো মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের স্ট্যান্ডার্ড ফিচার অনুযায়ী সেখানে ট্রান্সলেটর বা পেমেন্ট সিস্টেম থাকার কথা নয়, কারণ এতে গোপনীয়তা নষ্ট হয়। বিপে অনুবাদ করার কাজে মাইক্রোসফট ও গুগলকে থার্ড পার্টি হিসেবে সমন্বয় করা আছে। আর যেকোনো ট্রান্সলেটরকেই অনুবাদ করতে হলে প্রতিটি অক্ষর প্রতিটি শব্দ লাইন ধরে ধরে পাঠ করতে হয়। এখানেই ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি সম্পূর্ণ ভঙ্গ হচ্ছে। এদিকে পেমেন্ট সিস্টেম যেহেতু ইন্টিগ্রেট করা আছে, আবার বিভিন্ন থার্ড পার্টি এখানে ইন্টিগ্রেটেড আছে, সুতরাং এমন একটি অ্যাপ্লিকেশনে পেমেন্ট কার্ড সংযোজন করা সম্পূর্ণ অনিরাপদ।

আবার অ্যাপটি ফোনে ইনস্টলের পর চালু করলে ফোনের সব ধরনের পারমিশন নিয়ে নেয়। অদ্ভুত বিষয় এই যে এটি নিজে মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন হলেও ফোনে থাকা ডিফল্ট এসএমএস অ্যাপ্লিকেশনটির সম্পূর্ণ পারমিশন নিয়ে নেয়। এ ছাড়া বিপ অ্যাপ্লিকেশন এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের কথা বললেও এ সম্পর্কিত কোনো ধরনের ডকুমেন্টেশন নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বা অ্যাপে পাওয়া যায় না।

বিপ অ্যাপের মাদার কম্পানি টার্কসেল নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। টার্কসেলের ভর্তুকি সাবসিডিয়ারি আইএসপি কম্পানি টার্কসেল সুপার অনলাইন নিজেদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অ্যাডভারটাইজমেন্ট ইনজেকশন করত অর্থাৎ ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা ব্যবহারকারীদের জোরপূর্বক বিভিন্ন অ্যাড দেখাত। এটি নিয়ে প্রচুর সমালোচিত হওয়ার পরও তারা এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। অন্যদিকে আবার ২০১৩ সালে টার্কসেল ইরানে মোবাইল লাইসেন্স পাওয়ার জন্য অবৈধ পদ্ধতি অবলম্বন করে এবং ধরা পড়ে ৪.২ বিলিয়ন ডলার জরিমানাও দেয়।

আরো পড়ুন

কারবাংলা রেন্টাল সেবা ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম!

কারবাংলা রেন্টাল সেবা ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম!

কারবাংলা সম্পূর্ণ ট্রান্সপোর্ট এবং লজিস্টিক ভিত্তিক দেশীয় রাইড শেয়ারিং সেবা দানকারী একটি প্রতিষ্ঠান। কারবাংলা প্রাইভেট …