দেশে এখন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চলছে : এরশাদের আপডেট: 16-04-2018   
সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মন্তব্য করেছেন, দেশে এখন একদলীয় শাসন চলছে। তিনি বলেন, দেশের সর্বত্র দলীয়করণ, ব্যাংকে টাকা নাই, লুটপাট হয়ে গেছে। শেয়ারবাজারে লুটপাট। নির্বাহী বিভাগ কারো কথা শোনে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা ছাড়া কেউ কাজ করে না। ফাইল নড়ে না। দুপুরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একদলীয় শাসন চাই না, জনগণের শাসন চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না-আমরাই ক্ষমতায় যাবো। দুঃশাসনের বেড়াজাল ভেঙে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ অশান্তিতে আছে, অস্থিরতার মধ্যে বাস করছে। মানুষের শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ মুক্তি চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্য। মানুষ জাতীয় পার্টির জন্য প্রস্তুত। পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। বিএনপি না আসলেও আমরা নির্বাচন করবো। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির অপর অংশের (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম এম আলম বলেন, এরশাদ সাহেবের কথাবার্তায় কখন কি বলেন তার তেমন একটা গুরুত্ব দেয় না এদেশের মানুষ। তবে বর্তমান সরকারের অংশীদার ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে তিনি আওয়ামী লিগের সরকার এবং অওয়ামীলীগ দল সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা খুবই বাস্তব সম্মত বক্তব্য। এরশাদ বলেন, রংপুর ছিল জাতীয় পার্টির দুর্গ। এখন নাই। আসন কমে গেছে। সে আসন ফিরিয়ে আনতে হবে। সামনে নির্বাচন। এ নির্বাচন বাঁচা-মরার নির্বাচন। এ নির্বাচনে বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে। ২২টি আসন পেলে আমরা ক্ষমতায় যাবো। সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদ বলেন, ৯৬ সালে আমাদের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আমার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে। আমার দল ভেঙেছে। আর বিএনপির সরকারের শাসনামলে আমাকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয় নাই। আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় নাই। আমাকে ইফতার করতে দেওয়া হয় নাই। আল্লাহর রহমতে জনগণের ভালোবাসায় আমি বেঁচে আছি, ভালো আছি। নিজের শাসনামলে মানুষ নিরাপদে ছিল দাবি করে সাবেক এই সামরিক শাসক বলেন, তার শাসনামলে দশে খুন হতো না। আর এখন খুনের মহোৎসব চলছে। নারী ও শিশু ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে করে আমরা সবাই ধর্ষিত হচ্ছি। নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটাই যেন অভিশাপ। এরশাদ দাবী করেন, 'আমার সময়ে ইয়াবা ছিল না, মাদক ছিল না। উন্নয়ন ছিল। এখন চায়ের দোকানেও মাদক পাওয়া যায়। মাদক তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।' বক্তব্য শেষে এরশাদ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের মিঠাপুকুর উপজেলা সভাপতি এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরের নাম ঘোষণা করেন।