“মিয়ানমারের ক্ষমতায় এক নিষ্ঠুর নারী; নোবেল শান্তি পুরস্কারের মৃত্যু ঘটেছে” আপডেট: 15-09-2017   
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান হত্যা নির্যাতনের ব্যাপারে মানবাধিকারের দাবিদার ও আন্তর্জাতিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা ও নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করার জন্য মুসলিম দেশগুলোর উচিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার সংকট অবসানের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে তিনি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ বলতে সেনা মোতায়েনের কথা বলেন নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর এখন যে জুলুম নির্যাতন চলছে তা পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এখানে প্রকাশ্যে একটি মুসলিম জাতিকে পুরোপুরি নির্মূল করে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। মুসলিম উম্মাহ ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ইসরাইলের হত্যা নির্যাতনের মতো আরেকটি দুঃখজনক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে। ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে মিয়ানমারেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ইসরাইল, আমেরিকা ও ব্রিটেন রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মহাবিপর্যয় চাপিয়ে দিয়েছে। এটি এমন এক বিপর্যয় যা উপেক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান গণহত্যাকে পুরোপুরি মুসলমান ও বৌদ্ধদের মধ্যকার ধর্মীয় বিরোধের ফল নয় উল্লেখ করে বলেছেন, তবে এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টি কিছুটা জড়িত থাকলেও বিষয়টি আসলে রাজনৈতিক। কারণ মিয়ানমারের ক্ষমতায় এমন এক দয়ামায়াহীন নারী রয়েছেন যিনি আবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তার আচরণের ফলে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মৃত্যু ঘটেছে। দুঃখজনক হচ্ছে, মিয়ানমারের ক্ষমতাধর ব্যক্তি অং সান সুচি ক্ষমতায় আসার পর রোহিঙ্গা মুসলমানদের অবস্থার কোনো উন্নতিতো হয়নি বরং তাদের অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে। আরো দুঃখজনক হচ্ছে, বেশিরভাগ সংবাদ ও রাজনৈতিক মহল রোহিঙ্গাদের বিষয়টিকে রহস্যজনকভাবে উপেক্ষা করে চলেছে অথবা ভুলে যাওয়ার ভান করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারে এখন যা ঘটছে তা কেবল দশ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভাগ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং এটি উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এটা তারই অংশ মাত্র। রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে হত্যা নির্যাতন চলছে তার কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে কিনা সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সরকার ও উগ্র বৌদ্ধদের নতুন করে হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত ৬০০০'র বেশি মুসলমান নিহত এবং ৮০০০ জন আহত হয়েছে। বিপর্যয়ের মাত্রা এতোটা বেশি যে, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার পরিষদের কাঁধে দায়িত্বের বোঝা এখন আগের চেয়ে আরো বেশি। যদিও এই সংস্থাগুলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ মহাসচিব কেবল নিন্দা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় এর সমালোচনা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, মানবাধিকারের দাবিদাররা একটি দেশের একজন অপরাধীর জন্য মায়াকান্না করে অথচ মিয়ানমারে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের হত্যার ঘটনায় টু শব্দটিও করছে না। পার্সটুডে
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ